,

ফতুল্লায় বাসে অস্ত্রের মুখে ২৫ যাত্রীর টাকা-মোবাইল লুট

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গভীর রাতে যাত্রীবাহী বাসে অস্ত্রের মুখে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ভুইগড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জামালপুর থেকে নারায়ণগঞ্জগামী সিফাত পরিবহনের একটি বাস থামিয়ে অন্তত ২৫ যাত্রীর কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে গেছে একদল দুর্বৃত্ত। যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বাসের চালককে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর তাঁদের মালামাল কেড়ে নেওয়া হয়।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিনগত রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং বাসটি নারায়ণগঞ্জ কোর্ট এলাকার সিফাত পরিবহনের কাউন্টারে গিয়ে থামে। সেখানেই তাঁরা বাসকর্মীদের কাছে ডাকাতির বিষয়টি জানান।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-২৪৪৪ নম্বরের সিফাত পরিবহনের বাসটি রাত ১০টার দিকে জামালপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। যাত্রার শুরুতে বাসে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন। পথে সাইনবোর্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজন যাত্রী নেমে যাওয়ার পর বাসটি ভুইগড় এলাকায় পৌঁছানোর সময় যাত্রীসংখ্যা কমে প্রায় ২৫ জনে দাঁড়ায়।

ভুইগড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যাত্রী নামানোর জন্য বাসটি থামানো হয়। ঠিক সেই সময় ধারালো অস্ত্র হাতে কয়েকজন ব্যক্তি জোর করে বাসে উঠে পড়ে। তাঁদের আচরণে মুহূর্তেই বাসের ভেতর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

যাত্রীদের অভিযোগ, ডাকাত দলের একজন বাসচালকের কাছে গিয়ে তাঁর বুকে বড় একটি ছুরি ধরে রাখে। অন্যরা যাত্রীদের ভয় দেখিয়ে একে একে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন বের করে দিতে বাধ্য করে। অস্ত্রের মুখে থাকা অবস্থায় যাত্রীদের পক্ষে প্রতিরোধের সুযোগ ছিল না বলেও জানান তাঁরা।

লুটপাট শেষ হওয়ার পর দুর্বৃত্তরা দ্রুত বাস থেকে নেমে পালিয়ে যায়। তাঁদের চলে যাওয়ার পর চালক বাসটি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ কোর্ট এলাকার সিফাত পরিবহনের কাউন্টারের সামনে যান। রাত সাড়ে ৩টার দিকে সেখানে পৌঁছানোর পর যাত্রীরা কাউন্টারকর্মীদের কাছে নিজেদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা জানান।

সিফাত পরিবহনের কোর্ট এলাকার টিকিট কাউন্টারকর্মী বিপ্লব বলেন, ডাকাতরা বাস থেকে নেমে যাওয়ার পর চালক যাত্রীদের নিয়ে কাউন্টারের সামনে আসেন। তখন যাত্রীরা তাঁদের টাকা ও মোবাইল ফোন লুট হওয়ার কথা জানান।

পরে ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয়। ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির বলেন, বাসটি যে এলাকায় থামানো হয়েছিল, তার আশপাশেই পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। কোনো ধরনের ডাক বা চিৎকার শুনলে তাঁরা ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যেতেন। তবে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার পর বাসচালক ও যাত্রীরা তাঁদের কাছে ঘটনাটি জানান।

এসআই মিলন ফকিরের ভাষ্য, যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন, দেশীয় ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডাকাত দলের কয়েকজন বাসের ভেতরে উঠেছিল, আর অন্তত একজন বাইরে অবস্থান করছিল।

এ ঘটনায় ঠিক কত টাকা এবং কতটি মোবাইল ফোন লুট হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট করা যায়নি। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে লুট হওয়া সামগ্রীর বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে দুর্বৃত্তদের পরিচয় শনাক্ত ও তাদের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের বিষয়টিও তদন্তের অংশ হয়ে উঠেছে।

ঘটনার পর গভীর রাতে আন্তজেলা বা দূরপাল্লার বাসে চলাচলকারী যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে রাতের শেষভাগে বাস থামানোর সময় যাত্রীদের নিরাপত্তা, চালক ও সহকারীদের সতর্কতা এবং সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে এই ঘটনার ভিত্তিতে পুরো রুট বা পরিবহনব্যবস্থা সম্পর্কে কোনো সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, বাসচালক ও যাত্রীদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে তথ্য নেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। লুট হওয়া টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধারের বিষয়েও কোনো নিশ্চিত তথ্য জানা যায়নি।

অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের কাছ থেকে মালামাল লুটের এই ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্টদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।