বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে ডাববোঝাই নসিমনের সঙ্গে দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার বলাইবুনিয়া ইউনিয়নের দোনা গ্রামে সাইনবোর্ড-শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তিনজন হলেন কালিকাবাড়ি গ্রামের বাবুল মোল্লার ছেলে রিমন (২৫), নজরুল ইসলামের ছেলে আমিন হোসেন (২২) এবং শিক্ষক মোহাম্মদ জামালের ছেলে মুহিব (১৬)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় দুটি মোটরসাইকেল ওই সড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে আসছিল। দোনা গ্রামের এলাকায় পৌঁছালে ডাববোঝাই একটি নসিমনের সঙ্গে মোটরসাইকেল দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন মোটরসাইকেলে থাকা কয়েকজন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। ঘটনাস্থলেই রিমন ও আমিন হোসেনের মৃত্যু হয়। অপর তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় মোড়েলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মুহিবের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আহত অপর দুজনের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহত ব্যক্তির চিকিৎসা মোড়েলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলছে বলে জানা গেছে।
মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। পরে গুরুতর আহত তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে আরও একজন মারা যান। আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
একই দুর্ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রিমন ও আমিন তরুণ বয়সী ছিলেন, আর মুহিবের বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। একটি সড়ক দুর্ঘটনায় একই এলাকার তিনজনের মৃত্যু পরিবারগুলোর জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুর্ঘটনার পর সাইনবোর্ড-শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে দুর্ঘটনার পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিকভাবে স্থানীয় সূত্র দ্রুতগতিকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং দুর্ঘটনার পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হতে পারে। নসিমন ও দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় যানবাহনগুলোর অবস্থান, সড়কের পরিস্থিতি এবং চালকদের ভূমিকা তদন্তে বিবেচনায় আসতে পারে।
এদিকে, সড়কে মোটরসাইকেল চলাচলের ক্ষেত্রে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সতর্কতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক মহাসড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন পাশাপাশি চলাচল করায় অসতর্কতা বা অতিরিক্ত গতি গুরুতর দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে এই ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে কোনো আইনগত অভিযোগ বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।









