,

‘ক্লিন হার্ট’ নয়, সমন্বিত অভিযানেই জোর সরকারের

সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতীতের ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর আদলে কোনো অভিযান চালানোর পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নতুন করে কোনো বিশেষ যৌথ বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তরের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আলাদা কোনো যৌথ বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা যেমন নেই, তেমনি অতীতে পরিচালিত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো বিশেষ অভিযান চালানোরও চিন্তাভাবনা সরকারের নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যমান বাহিনীগুলোর মধ্যকার সমন্বয় আরও বাড়ানো হবে।

তিনি জানান, দেশজুড়ে অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বয়ে যে অভিযানগুলো পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলো আরও জোরদার করা হবে। নতুন কোনো বাহিনী গঠনের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দেওয়া হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিদ্যমান বাহিনীগুলোর সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বর্তমান কৌশল নতুন কোনো বাহিনী তৈরির পরিবর্তে বিদ্যমান বাহিনীগুলোর সক্ষমতা ও পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর দিকে কেন্দ্রীভূত। পুলিশ, আনসারসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধ, চাঁদাবাজি, মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বিত তৎপরতার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব কার্যক্রম নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অংশ হিসেবেই পরিচালিত হচ্ছে এবং পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী তা আরও জোরদার করা হবে।

‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ প্রসঙ্গ কেন গুরুত্বপূর্ণ

২০০২ সালে তৎকালীন সরকার ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ নামে একটি বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা অভিযান পরিচালনা করেছিল। ওই অভিযানে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় ১০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল।

তাই সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে একই ধরনের কোনো অভিযান হবে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তিনি জানিয়েছেন, সেই ধরনের অভিযানের কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং প্রচলিত আইন ও বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা কাঠামোর মধ্যেই সমন্বিত অভিযান চালিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সে কারণে পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত ও সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, নতুন কোনো বিশেষ বাহিনী গঠন বা অতীতের বড় আকারের বিশেষ অভিযান পুনরায় চালুর পরিবর্তে বিদ্যমান বাহিনীগুলোর যৌথ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামনে সমন্বিত অভিযানই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে মন্ত্রীর বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

এদিকে, তেজগাঁওয়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তরের শুভারম্ভ ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের বার্তাটি মূলত দুই দিককে সামনে আনছে—নতুন কোনো বিশেষ যৌথ বাহিনী গঠন করা হচ্ছে না এবং ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো অভিযানও ফিরছে না; তবে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর সমন্বিত তৎপরতা আরও বাড়ানো হবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।