রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ দমনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ২৬টি মামলা করা হয়েছে। অভিযানে তলোয়ার, চাপাতি, ধারালো চাকতিসহ দেশীয় অস্ত্র এবং ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপরাধের ধরন ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।
ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর আটটি পুলিশ বিভাগ ও গোয়েন্দা বিভাগে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ছিল ভিন্ন। এর মধ্যে তেজগাঁও বিভাগে সর্বোচ্চ ৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিরপুর বিভাগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৭১ জন এবং মতিঝিল বিভাগে ৬৮ জন। ওয়ারী বিভাগ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫১ জনকে।
এ ছাড়া উত্তরা বিভাগে ৪২ জন, গুলশান বিভাগে ৩৬ জন, লালবাগ বিভাগে ৩৪ জন এবং রমনা বিভাগে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোয়েন্দা বিভাগ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে। এসব সংখ্যা যোগ করলে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪০১ জন।
অভিযানের সময় পুলিশ চার ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি তলোয়ার, একটি চাপাতি, লোহার রডের মাথায় সংযুক্ত ধারালো গোলাকৃতির একটি চাকতি এবং একটি লোহার রড। তবে এসব অস্ত্র কোথা থেকে, কোন ব্যক্তির কাছ থেকে বা কোন ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, সে বিষয়ে ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৯৫ পিস ইয়াবা, ৭০ গ্রাম হেরোইন এবং ৬৬৮ গ্রাম গাঁজা। মাদকের পাশাপাশি একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়েছে। গাড়িটি কোনো নির্দিষ্ট অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছিল কি না বা এর মালিকানা কার, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।
এক দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ৪০১ জনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ২৬টি মামলা করার তথ্য দিয়েছে ডিএমপি। এসব মামলার ধরন বা কোন থানায় কতটি মামলা হয়েছে, তা বিজ্ঞপ্তিতে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে, তা পৃথক মামলার নথি ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টহল, অভিযান ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও মাদক সংশ্লিষ্ট মামলায় আলামত হিসেবে ব্যবহৃত হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া মানেই কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচিত হবেন।









