,

ডি থ্রি ট্রফিতে কোচ বাছাই হলো ড্রাফটে

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে দল গঠনের প্রক্রিয়ায় নতুনত্ব আনতে এবার কোচ ও সাপোর্ট স্টাফ বাছাইয়েও ড্রাফট পদ্ধতি চালু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নতুন কাঠামোর ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ‘ডি থ্রি ট্রফি’র ছয় দলের জন্য মঙ্গলবার মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে ম্যানেজমেন্ট ড্রাফট। এই ড্রাফটের মাধ্যমে ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজি নিজেদের প্রধান কোচ, সহকারী কোচ এবং প্রয়োজনীয় সাপোর্ট স্টাফ নির্বাচন করেছে।

ডি থ্রি ট্রফিকে ঘিরে বিসিবির পরিকল্পনার মূল বৈশিষ্ট্য হলো—একই ছয়টি দল তিন সংস্করণের ক্রিকেটে অংশ নেবে। টি-টোয়েন্টি, ৫০ ওভারের ক্রিকেট এবং চার দিনের ম্যাচকে আলাদা আলাদা প্রতিযোগিতা হিসেবে না দেখে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আয়োজন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে একটি দলের কোচিং কাঠামো ও খেলোয়াড়দের প্রস্তুতিও তিন ধরনের ক্রিকেটের প্রয়োজন মাথায় রেখেই পরিচালিত হবে।

প্রতিটি দলে ২৩ জন করে ক্রিকেটার রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। কোচিং স্টাফের ক্ষেত্রেও রাখা হয়েছে নির্দিষ্ট কাঠামো। বিসিবির দেওয়া তালিকা থেকে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি একজন প্রধান কোচ, দুজন সহকারী কোচ, একজন ফিজিও, একজন ট্রেনার এবং একজন পারফরম্যান্স অ্যানালিস্ট বেছে নিয়েছে। ফলে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি মাঠের বাইরের প্রস্তুতিতেও একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে উঠছে।

প্রধান কোচ নির্বাচনের ক্ষেত্রে ছয় দল ছয়জনকে বেছে নিয়েছে। এইস ব্লু স্টারের দায়িত্ব পেয়েছেন সোহেল ইসলাম। একমি নিয়েছে রাজিন সালেহকে। সিটিজেনস ব্যাংকের প্রধান কোচ হয়েছেন মিজানুর রহমান বাবুল। ফরচুন গ্রুপ বেছে নিয়েছে মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে। সেভেন রিংস সিমেন্টের প্রধান কোচ তালহা জুবায়ের এবং ওয়ালটনের দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার আব্দুর রাজ্জাক।

ম্যানেজমেন্ট ড্রাফটের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল জাতীয় ও বয়সভিত্তিক দলের কোচিং স্টাফের সদস্যদের ঘরোয়া ক্রিকেটে যুক্ত হওয়া। জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল ফরচুন গ্রুপের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। একই দলের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, যিনি হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের প্রধান কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের সেভেন রিংস সিমেন্টের প্রধান কোচ হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে সহকারী কোচ হিসেবে থাকছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচ হান্নান সরকার ও হুমায়ুন কবির শাহীন। ফলে ডি থ্রি ট্রফির দলগুলোতে জাতীয় ও বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞ কোচদের উপস্থিতিও দেখা যাচ্ছে।

তবে জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক সূচির সঙ্গে ঘরোয়া প্রতিযোগিতার দায়িত্ব সমন্বয় করা একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। জাতীয় দলের কোনো সিরিজ বা ক্যাম্প চলাকালে সংশ্লিষ্ট কোচদের দায়িত্ব পালনে ব্যস্ততা তৈরি হলে কীভাবে ডি থ্রি ট্রফির দলগুলো পরিচালিত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানিয়েছেন, জাতীয় দলের ব্যস্ততা না থাকলে সংশ্লিষ্ট কোচরা ডি থ্রি ট্রফিতে কাজ করবেন। কোনো কোচকে পাওয়া না গেলে বিকল্প কোচ নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এদিকে ছয় দলের আইকন ক্রিকেটারও নির্ধারণ করেছে বিসিবি। ফরচুনের আইকন হয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। এইস ব্লু স্টারের দায়িত্বে থাকবেন নুরুল হাসান সোহান। সিটিজেনস ব্যাংকের আইকন নাঈম শেখ, ওয়ালটনের মেহেদী হাসান মিরাজ, একমির মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত এবং সেভেন রিংস সিমেন্টের আইকন মুশফিকুর রহিম।

ডি থ্রি ট্রফির মাঠের কার্যক্রম শুরু হবে টি-টোয়েন্টি দিয়ে। ১৫ ডিসেম্বর থেকে এই সংস্করণের প্রতিযোগিতা শুরুর কথা রয়েছে। এরপর জানুয়ারিতে চার দিনের ক্রিকেট এবং মে মাসে ৫০ ওভারের প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিন সংস্করণ মিলিয়ে মোট ৪২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১৯টি টি-টোয়েন্টি, ১৬টি ৫০ ওভারের এবং সাতটি চার দিনের ম্যাচ।

তিন সংস্করণের এই সমন্বিত কাঠামোয় দলগুলোর জন্য খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। টি-টোয়েন্টির জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত ও আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের প্রস্তুতির পাশাপাশি চার দিনের ক্রিকেটে দীর্ঘ সময়ের পারফরম্যান্স, ধৈর্য এবং বোলিংয়ের গভীরতা বিবেচনায় রাখতে হবে। আবার ৫০ ওভারের ক্রিকেটে দুই ধরনের চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে হবে। একই দলের অধীনে তিন সংস্করণ থাকায় কোচিং স্টাফের পরিকল্পনায়ও এই পার্থক্যগুলো বিবেচনায় রাখার সুযোগ থাকবে।

ম্যানেজমেন্ট ড্রাফট শেষ হওয়ায় এখন নজর খেলোয়াড় নির্বাচনের দিকে। ২৬ অক্টোবর ছয় দলের খেলোয়াড় ড্রাফট বা নিলাম হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিটি দলে ২৩ জন ক্রিকেটার নিয়ে পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড গঠনের পরই ডি থ্রি ট্রফির দলগুলোর শক্তি ও ভারসাম্যের চিত্র স্পষ্ট হবে।

কোচিং স্টাফ বাছাইয়ের এই নতুন পদ্ধতির পর এবার খেলোয়াড় নির্বাচনের প্রক্রিয়াও একই কাঠামোর অধীনে এগোবে। এরপর ডিসেম্বরের টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হবে মাঠের প্রতিযোগিতা। নতুন এই ব্যবস্থায় বিসিবির ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।