মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মো. লোকমান হোসেনকে দীর্ঘ ১৪ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। ২০১২ সালে মামলা হওয়ার পর বিচারিক প্রক্রিয়ায় তার বিরুদ্ধে সাজা হলেও রায় ঘোষণার আগেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চললেও অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
অবশেষে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুঞ্জেরহাট পদ্ম মনসা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার লোকমান হোসেনের বয়স ৪০ বছর। তিনি ওই গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেন হাওলাদারের ছেলে।
এসআরবি-৮-এর মিডিয়া কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার ওয়ালিদ হাসান মিঠু গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ২০১২ সালে মাগুরা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে লোকমান হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
তবে আদালতের রায় ঘোষণার আগেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। ফলে আদালতের দেওয়া সাজা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার কারণে লোকমানকে গ্রেপ্তারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলকারী কর্মকর্তা আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য এসআরবি-৮-এর অধিনায়কের কাছে অধিযাচনপত্র পাঠান। এরপর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে লোকমানের অবস্থান শনাক্তে কাজ শুরু করে এসআরবি-৮-এর ভোলা ক্যাম্প।
এসআরবি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লোকমান হোসেনের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এসব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে ভোলা ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল কুঞ্জেরহাট পদ্ম মনসা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
শুক্রবার রাতে পরিচালিত ওই অভিযানে লোকমান হোসেনকে আটক করা হয়। দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর গ্রেপ্তারের ঘটনায় আদালতের জারি করা পরোয়ানা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াও এগিয়ে গেল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, কোনো আসামি দীর্ঘদিন পলাতক থাকলে তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারও করা হয়। লোকমানের ক্ষেত্রেও এ ধরনের তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করার পর অভিযান চালানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর লোকমান হোসেনকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বোরহানউদ্দিন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানা এখন মামলার নথি, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং তার বিরুদ্ধে দেওয়া সাজা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
মাগুরায় দায়ের হওয়া একটি মাদক মামলার সূত্র ধরে শুরু হয়েছিল লোকমান হোসেনের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া। দীর্ঘ ১৪ বছর আত্মগোপনে থাকার পর ভোলায় তার গ্রেপ্তার সেই মামলার পরবর্তী কার্যক্রমকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। তবে মামলার বিস্তারিত অভিযোগ, মাদকের ধরন বা পরিমাণ এবং আদালতের রায়ের অন্যান্য তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের উদ্ধৃতি ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা হয়নি। তাই এসব বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য যোগ না করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ঘটনাটি তুলে ধরা হচ্ছে।









