,

ময়মনসিংহে ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালটিতে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। একই সময়ে নতুন করে ৫৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৮ জন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৃত দুই রোগীর একজন রাশিদা খাতুন (৪২)। তার বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ৩০ মিনিটে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ হিসেবে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্য রোগী জাফর আলী (৭০) গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, জাফর আলীর মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ হিসেবে একাধিক গুরুতর জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এক্সপ্যান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোম, অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিস্ট্রেস সিনড্রোম (এআরডিএস), সেপসিস, সেপটিক শক ও ডিআইসি। এসব জটিলতা একসঙ্গে দেখা দেওয়ায় তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছিল।

দুই রোগীর মৃত্যুর পাশাপাশি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ৫৮ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। ফলে বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৩১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চলতি বছরের শুরু থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু নিয়ে মোট ২ হাজার ১৭৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও এ পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ দুই মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা ও গুরুতর রোগীদের চিকিৎসার ওপর চাপের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে শক, শ্বাসকষ্ট, সেপসিস বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিলে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। রাশিদা খাতুনের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম এবং জাফর আলীর ক্ষেত্রে একাধিক জটিলতা মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে হাসপাতালে ১৩১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে উল্লেখযোগ্য চাপের মধ্যে। প্রতিদিন নতুন রোগী যেমন হাসপাতালে আসছেন, তেমনি চিকিৎসা শেষে অনেকে ছাড়পত্রও পাচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টার হিসাবেও নতুন ভর্তি ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার মধ্যে সেই ধারাবাহিকতা দেখা গেছে।

হাসপাতাল সূত্রের তথ্য বলছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর মোট ভর্তি ২ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু এবং বর্তমানে ১৩১ জনের চিকিৎসাধীন থাকার তথ্য ডেঙ্গু পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে। বিশেষ করে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আসা রোগীদের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।