,

মিরাজের ৯ উইকেট, তবু ব্যাটিং ব্যর্থতায় হার গায়ানার

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) বাংলাদেশের মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। টুর্নামেন্টে নিজের তৃতীয় ম্যাচেও বল হাতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন এই অলরাউন্ডার। তবে তাঁর ২ উইকেটও গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়ার্সকে হার থেকে বাঁচাতে পারেনি। ব্যাটিং বিপর্যয়ে মাত্র ৯৯ রানে অলআউট হয়ে শেষ পর্যন্ত বার্বাডোজ রয়্যালসের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছে গায়ানা।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমেই বড় ধাক্কা খায় গায়ানা। ইনিংসের তৃতীয় ওভার শেষ হওয়ার আগেই মাত্র ১৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বসে তারা। শুরুতেই এমন বিপর্যয়ের পর ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নিতে হয় গ্লেন ফিলিপস ও মিরাজকে।

দুজন মিলে ২৩ রানের জুটি গড়লেও সেটি বড় হয়নি। ২৪ রান করে ফিলিপস ফিরলে গায়ানার ব্যাটিং আবারও চাপে পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত তাঁর ২৪ রানই হয়ে থাকে দলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। এমনকি গায়ানার ইনিংসে কোনো ব্যাটারই ২৫ রানের ঘর ছুঁতে পারেননি।

মিরাজও ব্যাট হাতে বড় অবদান রাখতে পারেননি। দ্রুত উইকেট হারানোর কারণে তাঁর কাছ থেকে বড় ইনিংসের প্রয়োজন থাকলেও সেটি পাওয়া যায়নি। একের পর এক উইকেট পড়তে থাকায় গায়ানার রান তোলার গতি থমকে যায়।

ইনিংসের শেষ দিকে রোমারিও শেফার্ড ও ইমরান তাহির কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। দুজনের ব্যাটে আসে ৩১ রানের জুটি, যা গায়ানার ইনিংসে সর্বোচ্চ। শেফার্ড শেষ পর্যন্ত ২২ রান করে দলের শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন। ১৮.১ ওভারেই গায়ানার ইনিংস থামে মাত্র ৯৯ রানে।

বার্বাডোজের বোলারদের মধ্যে এএম গজনফার ও জোহান লেইন ছিলেন সবচেয়ে সফল। দুজনই তিনটি করে উইকেট নিয়ে গায়ানার ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দেন। তাঁদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে গায়ানার কোনো ব্যাটারই দীর্ঘ সময় উইকেটে থাকতে পারেননি।

১০০ রানের লক্ষ্য খুব বড় না হলেও বার্বাডোজের রান তাড়ার শুরুটা একেবারে স্বস্তির ছিল না। ৩৬ রানের মধ্যেই তৃতীয় উইকেট হারায় তারা। তখন গায়ানার সামনে ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। আর সেই সুযোগকে আরও বড় করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন মিরাজ।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে কুইন্টন ডি ককের অফস্টাম্প ভেঙে দেন বাংলাদেশের অফস্পিনার। পরে ১২তম ওভারে তাঁর দ্বিতীয় শিকার হন শ্যাডর্যাক ডেসকার্টে। ৩২ রান করে ডেসকার্টে আউট হলেও ততক্ষণে বার্বাডোজ জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করে ফেলেছে।

মিরাজের বোলিংয়ের পরিসংখ্যানও তাঁর কার্যকারিতার প্রমাণ দিচ্ছে। এ ম্যাচে ২৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন তিনি। সিপিএলে তিন ম্যাচ শেষে তাঁর মোট উইকেট দাঁড়িয়েছে ৯টি। অর্থাৎ টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত গায়ানার বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি মিরাজ।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য ম্যাচে আর কোনো নাটক হতে দেননি ব্র্যান্ডন কিং। ৪৪ রানে অপরাজিত থেকে তিনি বার্বাডোজকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। ১৪.৫ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১০০ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় বার্বাডোজ রয়্যালস।

এই পরাজয় গায়ানার জন্য বড় ধাক্কা হলেও সামনে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্সের বিপক্ষে প্রথম কোয়ালিফায়ারে মাঠে নামবে তারা। ওই ম্যাচটি সরাসরি ফাইনালের টিকিটের লড়াই। জয়ী দল সরাসরি শিরোপার ম্যাচে চলে যাবে।

ফ্যালকন্সের বিপক্ষেই লিগ পর্বে নিজেদের প্রথম হারের মুখ দেখেছিল গায়ানা। তাই কোয়ালিফায়ারের আগে সেই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের পরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে হবে তাদের। বিশেষ করে বার্বাডোজের বিপক্ষে মাত্র ৯৯ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ব্যাটিং বিভাগ নিয়ে দ্রুত কাজ করতে হবে দলটিকে।

গায়ানার জন্য স্বস্তির জায়গা একটাই—বোলিংয়ে মিরাজের ধারাবাহিকতা। তিন ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে তিনি ইতিমধ্যে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। নকআউট পর্বে তাঁর স্পিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে শুধু একজন বোলারের ওপর নির্ভর করে বড় ম্যাচ জেতা কঠিন। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে গায়ানাকে মিরাজের বোলিংয়ের সঙ্গে ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংও নিশ্চিত করতে হবে।

বার্বাডোজের কাছে এই হার তাই গায়ানার জন্য কেবল একটি ম্যাচের ফল নয়; সামনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কোয়ালিফায়ারের আগে এটি তাদের ব্যাটিং দুর্বলতারও একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।