সিলেট বিভাগে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে বিভাগটিতে হাম উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মারা যাওয়া চার শিশু হলো—এমরান, শাফায়েত, খাদিজা ও ওবায়দুল্লাহ। তাদের সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে হাম উপসর্গ নিয়ে ৪৯৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষাগারে নতুন করে কোনো রোগীকে হাম আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। তবে একই সময়ে হাম সন্দেহে ১৪৬ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা এবং নতুন সন্দেহভাজন রোগী—দুই দিক থেকেই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
চলতি বছরের শুরু থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ১ হাজার ৪৪ জন রোগী ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় হাম আক্রান্ত হিসেবে নিশ্চিত হয়েছেন। অর্থাৎ, সন্দেহভাজন রোগীর পাশাপাশি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া আক্রান্তের সংখ্যাও এক হাজার ছাড়িয়েছে।
মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হাম উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ১৬৪ শিশুর মধ্যে ১০ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছিল। অন্য ১৫৪ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হিসেবে হাম সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফল সব ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এর উল্লেখযোগ্য উপসর্গ। শিশুদের ক্ষেত্রে অপুষ্টি, দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কিংবা সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়া থাকলে সংক্রমণ গুরুতর আকার নিতে পারে। তবে শুধু উপসর্গের ভিত্তিতে হাম নিশ্চিত করা যায় না; ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।
সিলেটে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক রোগী উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিদিন নতুন করে সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে দ্রুত শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং আক্রান্তদের যথাযথ ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ হলো—ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী ১ হাজার ৪৪ জন, বর্তমানে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪৯৫ জন এবং হাম উপসর্গে মোট মৃত্যু ১৬৪ জন। মৃতদের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১০ জন।
সিলেট বিভাগের বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের শিশুদের জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া কিংবা শরীরে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে দেরি না করে হাসপাতালে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।









