প্রয়াত বন্ধু ও পর্তুগাল জাতীয় দলের সাবেক সতীর্থ দিয়েগো জোতাকে নিয়ে উপহাসের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সৌদি প্রো লিগে আল-হিলাল ও আল-তাআউনের ম্যাচে রুবেন নেভেসকে লক্ষ্য করে গ্যালারি থেকে কটূক্তি ও স্লোগান দেওয়া হয়। ঘটনাটি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট দর্শকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পর্তুগিজ তারকা।
ঘটনার একটি ভিডিও নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন রোনালদো। একই সঙ্গে লিগ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। রোনালদোর মতে, মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সমর্থকদের আবেগ ফুটবলের স্বাভাবিক অংশ হলেও তারও একটি সীমা রয়েছে। সেই সীমা অতিক্রম করে মৃত একজন মানুষকে নিয়ে উপহাস করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ ধরনের আচরণের সঙ্গে জড়িত দর্শকদের ভবিষ্যতে স্টেডিয়ামে প্রবেশের সুযোগ না দেওয়ার পক্ষেও মত দিয়েছেন রোনালদো। তার বক্তব্যে আজীবন স্টেডিয়াম নিষেধাজ্ঞার দাবিও উঠে এসেছে। ফুটবলের আবেগ যেন ব্যক্তিগত অপমান বা কারও মৃত্যুকে নিয়ে বিদ্রূপে পরিণত না হয়—এটাই ছিল তার প্রতিবাদের মূল বার্তা।
ঘটনাটি রোনালদোর জন্য বিশেষভাবে স্পর্শকাতর হওয়ার পেছনে রয়েছে ব্যক্তিগত সম্পর্ক। রুবেন নেভেস তার পর্তুগাল জাতীয় দলের সতীর্থ। অন্যদিকে দিয়েগো জোতার সঙ্গেও দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের জার্সিতে খেলেছেন রোনালদো। ফলে একই দলের দুই সতীর্থের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় নেভেসকে লক্ষ্য করে এমন কটূক্তি স্বাভাবিকভাবেই তাকে নাড়া দিয়েছে।
ম্যাচ চলাকালে গ্যালারি থেকে স্লোগান শোনার পর নেভেসকেও প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা যায়। প্রথমে তিনি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে হাততালি দেন। পরে আকাশের দিকে আঙুল তোলেন এবং নিজের চোখের দিকে ইশারা করেন। তার অঙ্গভঙ্গিতে দর্শকদের উদ্দেশে প্রতিবাদের ইঙ্গিত স্পষ্ট ছিল।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাটি নিয়ে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন নেভেস। তিনি বলেন, ওই দর্শকদের এমন আচরণের পর তারা যেন আর প্রার্থনা করতে না যান—এটাই তার আশা। তবে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেননি তিনি।
দিয়েগো জোতার মৃত্যু পর্তুগিজ ফুটবলে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছিল। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে স্পেনের জামোরায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান জোতা। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২৮ বছর। একই দুর্ঘটনায় মারা যান তার ছোট ভাই আন্দ্রে সিলভাও।
লিভারপুল ও পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে খেলা জোতা ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে রোনালদোর সঙ্গে একই মাঠে এবং একই ড্রেসিংরুমে সময় কাটিয়েছেন তিনি। তাই তার আকস্মিক মৃত্যু পর্তুগাল দলের সতীর্থদের জন্যও ছিল বড় ধাক্কা।
এই প্রেক্ষাপটে সৌদি প্রো লিগের ম্যাচে জোতাকে নিয়ে উপহাসের ঘটনা আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। রোনালদোর প্রকাশ্য প্রতিবাদ দেখিয়েছে, ফুটবলের উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও কিছু সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়।
এখন ঘটনার সঙ্গে জড়িত দর্শকদের বিষয়ে লিগ কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই দেখার বিষয়। তবে রোনালদোর বক্তব্যে একটি বিষয় পরিষ্কার—খেলার আবেগ যতই তীব্র হোক, প্রয়াত একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে বিদ্রূপ করার জায়গা ফুটবলে থাকা উচিত নয়।









