বগুড়ার শিবগঞ্জে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের গাড়িতে সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক ধাক্কা দিয়েছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলা হাসপাতালের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির একটি দরজা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে ছিলেন না প্রতিমন্ত্রী। ফলে তিনি বা তাঁর সঙ্গে থাকা কেউ আহত হননি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালের সামনে সেবা ট্রেডার্সের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ ট্রাকটি হেফাজতে নেয় এবং ট্রাকের চালকের সহকারী শাকিলকে আটক করে।
মোকামতলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক একেএম বানিউল আনাম জানান, প্রতিমন্ত্রীর গাড়িটি শিবগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে তাঁর গ্রামের বাড়ি বেতগাড়ির দিকে যাচ্ছিল। এ সময় সেবা ট্রেডার্সের সামনে পৌঁছালে সিমেন্টবোঝাই ট্রাকটি সিমেন্ট নামানোর পর সড়কের পাশে সরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল। তখন সেটি প্রতিমন্ত্রীর গাড়িতে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কার ফলে গাড়িটির একটি দরজা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। দুর্ঘটনার সময় ট্রাকের মূল চালক গাড়িতে ছিলেন না। তাঁর সহকারী শাকিল ট্রাকটি চালাচ্ছিলেন বলে ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাক ও শাকিলকে হেফাজতে নেয়। পরে ট্রাকের চালক ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুজ্জামান শাহীন জানান, ট্রাক ও চালক মো. শাহীনের লাইসেন্স এবং গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় কোনো ক্ষতিপূরণ নেওয়া হয়নি।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ট্রাকটি সিমেন্ট নামানোর পর সাইড করার সময়। তবে এ ঘটনায় কোনো মামলা বা ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে থানার পক্ষ থেকে আলাদা কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে, যখন সড়কের পাশে পণ্যবাহী যান থামিয়ে মালামাল ওঠানো-নামানোর সময় অন্য যানবাহনের চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়কে ভারী যানবাহন সরানোর সময় পর্যাপ্ত সতর্কতা না থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। শিবগঞ্জের এ ঘটনায় বড় ধরনের হতাহত না হলেও একটি সরকারি গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট যানবাহনের চালকের লাইসেন্স ও কাগজপত্র যাচাই করে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত কাগজপত্র ঠিক থাকায় এবং প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষে ট্রাক ও চালককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।









