লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে মসজিদসংলগ্ন কবরস্থান থেকে পরিত্যক্ত একটি ব্যাগে থাকা প্রায় ২৪ কেজি ব্যবহৃত গুলির সামনের ধাতব অংশ ও সীসাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ। ব্যাগটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগটি জব্দ করে পুলিশ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ৬ নম্বর লামচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের লামচর গ্রামের বায়তুল নূর জামে মসজিদসংলগ্ন কবরস্থান থেকে এসব ধাতব অংশ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, সকালে কবরস্থানের ভেতরে একটি বেওয়ারিশ ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ব্যাগটি সেখানে কীভাবে এল বা কে রেখে গেছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। কবরস্থানটি মসজিদের পাশে হওয়ায় বিষয়টি দ্রুত আশপাশের মানুষের নজরে আসে। কেউ ঝুঁকি না নিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে মোহাম্মদিয়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ ব্যাগটি জব্দ করে সেটি পরীক্ষা করলে ভেতরে বিপুল পরিমাণ ধাতব বস্তু পাওয়া যায়। পরে এসব বস্তু ওজন করে আনুমানিক ২৪ কেজি বলে জানা যায়।
মোহাম্মদিয়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) তাজ উদ্দিন জানান, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো প্রাথমিকভাবে ব্যবহৃত গুলির সামনের ধাতব বা সীসার অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্যাগের ভেতরে ব্যবহৃত গুলির খোলস ও সামনের ধাতব অংশও পাওয়া গেছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, কোনো ফায়ারিং রেঞ্জ বা অন্য কোনো উৎস থেকে এসব ধাতব অংশ সংগ্রহ করা হয়ে থাকতে পারে। এগুলো চুরি করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরে কোনো ব্যক্তি বা দুর্বৃত্ত চিহ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় কিংবা অন্য কোনো কারণে কবরস্থানে ব্যাগটি ফেলে যেতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া ধাতব অংশগুলোর প্রকৃত উৎস কোথায়, কে বা কারা এগুলো সংগ্রহ করেছে এবং কী উদ্দেশ্যে এত পরিমাণ ধাতব বস্তু কবরস্থানে এনে রাখা হয়েছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ধাতব অংশগুলোর উৎস শনাক্ত করার বিষয়টি। কারণ ব্যবহৃত গুলির অংশ একসঙ্গে প্রায় ২৪ কেজি পরিমাণে একটি কবরস্থানে পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক নয়। এগুলো কোনো ফায়ারিং রেঞ্জ থেকে সংগৃহীত, অন্য কোনো উৎস থেকে সংগ্রহ করা, নাকি কোনো স্থান থেকে চুরি করে আনা হয়েছে—তা নিশ্চিত হওয়ার পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
উদ্ধার হওয়া এসব ধাতব অংশ কোনো নির্দিষ্ট অস্ত্র, ফায়ারিং রেঞ্জ কিংবা অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সেটিও যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ ঘটনায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এসআই তাজ উদ্দিন বলেন, পরিত্যক্ত ধাতব অংশগুলোর উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। কবরস্থানে এগুলো ফেলে যাওয়ার পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও আলামতের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যেও কৌতূহল ও কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় স্থাপনার পাশে থাকা কবরস্থান থেকে বিপুল পরিমাণ ব্যবহৃত গুলির ধাতব অংশ উদ্ধারের ঘটনায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পুলিশ ব্যাগটি দ্রুত জব্দ করায় ঘটনাস্থলে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
উদ্ধার হওয়া ধাতব বস্তু বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এগুলোর প্রকৃতি ও উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া আলামত থেকে কোনো সূত্র পাওয়া যায় কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। কোথাও পরিত্যক্ত বা সন্দেহজনক ব্যাগ, ধাতব বস্তু কিংবা অন্য কোনো অস্বাভাবিক সরঞ্জাম পড়ে থাকতে দেখলে তা নিজেরা খোলার বা সরানোর চেষ্টা না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে বলা হয়েছে। এতে একদিকে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানো যাবে, অন্যদিকে তদন্তের প্রয়োজনীয় আলামতও অক্ষত থাকবে।










