,

এক ম্যাচে দুই গোল করলেন গোলকিপার কোম্যান

গোলরক্ষকের প্রধান দায়িত্ব প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানো। নিজের জাল অক্ষত রাখাই যেখানে একজন গোলকিপারের সবচেয়ে বড় সাফল্য, সেখানে উল্টো প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠানোই বিরল ঘটনা। আর একই ম্যাচে সেই গোলরক্ষক যদি দুইবার গোল করেন, তাহলে সেটি নিঃসন্দেহে বিশেষ কীর্তি। ডাচ শীর্ষ ফুটবল লিগ এরেডিভিসিতে এমনই এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছেন টেলস্টারের গোলরক্ষক রোনাল্ড কোম্যান জুনিয়র।

৩১ বছর বয়সী কোম্যান জুনিয়র শুধু গোলই করেননি, তাঁর দুই গোলের মাধ্যমেই হারের আশঙ্কায় থাকা টেলস্টার গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট উদ্ধার করেছে। ক্যামবুরের বিপক্ষে ম্যাচটি শেষ হয়েছে ২-২ গোলে। দলের কঠিন পরিস্থিতিতে পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে দুইবারই সফল হয়েছেন তিনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই টেলস্টারের জন্য পরিস্থিতি ছিল প্রতিকূল। প্রথমার্ধের ২২ মিনিটে নকভি থোরিসন সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ফলে ম্যাচের বাকি সময়ের বড় অংশ ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় স্বাগতিকদের। একজন খেলোয়াড় কম থাকায় স্বাভাবিকভাবেই ক্যামবুর আক্রমণে বাড়তি সুবিধা পায়।

বিরতির পর মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় ক্যামবুর। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর টেলস্টারের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা তখন ক্ষীণই মনে হচ্ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় গোলটি হজম করার মাত্র তিন মিনিট পর পেনাল্টি পায় টেলস্টার।

সেই মুহূর্তে গোল করার দায়িত্ব নিতে গোলপোস্ট ছেড়ে এগিয়ে আসেন কোম্যান জুনিয়র। মাঠের এক প্রান্ত থেকে দৌড়ে এসে ১২ গজ দূরত্ব থেকে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান তিনি। গোলটি টেলস্টারকে ম্যাচে ফেরার বিশ্বাস জোগায়।

নাটকের শেষটাও ছিল তাঁর পায়েই। যোগ করা সময়ের ১১ মিনিটে টেলস্টার আবার পেনাল্টি পায়। এবারও স্পট-কিক নিতে এগিয়ে যান গোলরক্ষক কোম্যান। দ্বিতীয়বারও কোনো ভুল করেননি তিনি। তাঁর শট জালে জড়াতেই ২-২ সমতা ফেরে এবং এক পয়েন্ট নিশ্চিত হয় টেলস্টারের।

দুই গোলের এই কীর্তির পর কোম্যান জুনিয়রের ২০২৬ সালে টেলস্টারের হয়ে করা গোলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুইয়ে। গোল করার ক্ষেত্রে গোলরক্ষকদের সাধারণত যে ভূমিকা দেখা যায় না, সেখানে কোম্যানের বিশেষত্ব হলো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পেনাল্টি নেওয়ার আত্মবিশ্বাস।

গত মৌসুমের শেষ ম্যাচেও তিনি দলের জন্য এমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ভলেন্ডামের বিপক্ষে ম্যাচের ৮৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে টেলস্টারকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি। সেই জয়ের ফলে দলটি এরেডিভিসিতে টিকে থাকা নিশ্চিত করতে পেরেছিল। অর্থাৎ, গোলরক্ষক হয়েও কোম্যানের গোলগুলো কেবল পরিসংখ্যান বাড়ানোর ঘটনা নয়; দলের ভাগ্য বদলাতেও সেগুলোর সরাসরি ভূমিকা রয়েছে।

কোম্যান জুনিয়রের এমন পারফরম্যান্সে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর বাবা রোনাল্ড কোম্যানের সঙ্গে তুলনা সামনে এসেছে। ডাচ ফুটবলের অন্যতম পরিচিত নাম তাঁর বাবা। ডিফেন্ডার হিসেবে খেললেও গোল করার দক্ষতার জন্য তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। পিএসভি, আয়াক্স, ফেইনুর্দ ও বার্সেলোনার মতো বড় ক্লাবে খেলা রোনাল্ড কোম্যান ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ২৫৪ গোল করেছেন। এর মধ্যে ১১৫টি ছিল পেনাল্টি থেকে। ক্যারিয়ারে ১৬টি পেনাল্টি অবশ্য তিনি মিসও করেছিলেন।

পরবর্তী সময়ে খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিংয়েও নিজের পরিচয় তৈরি করেন রোনাল্ড কোম্যান। সাউদাম্পটন, এভারটন ও বার্সেলোনার মতো ক্লাবের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। অন্যদিকে তাঁর ছেলে বেছে নিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান—গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে দলকে রক্ষা করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে নিজেই গোল করার পথ।

কোম্যান জুনিয়রের ফুটবলজীবনের সঙ্গে বাবার ক্যারিয়ারের যোগও বেশ গভীর। বার্সেলোনায় তাঁর বাবা যখন খেলতেন, তখনই ক্যাম্প ন্যুর শহরে তাঁর জন্ম। পরবর্তীতে নেদারল্যান্ডসে আলমেরে সিটির হয়ে পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু করেন তিনি। এরপর টপ ওসের হয়ে খেলেন। ২০২১ সালের গ্রীষ্মে টেলস্টারে যোগ দেওয়ার পর ধীরে ধীরে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন।

২০২৫ সালে প্লে-অফের মাধ্যমে টেলস্টারের শীর্ষ লিগে ওঠার পথেও কোম্যান জুনিয়র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দীর্ঘ ৪৭ বছর পর এরেডিভিসিতে ফিরে আসা দলটির জন্য তাঁর অভিজ্ঞতা ও গোল করার সক্ষমতা এখন বাড়তি সম্পদ হয়ে উঠেছে।

রোববার ক্যামবুরের বিপক্ষে ড্রয়ের পর চার ম্যাচে টেলস্টারের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে এক পয়েন্টের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ফলের মাধ্যমে। লিগে ফেরার পর দলটি এখনও নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। আর সেই লড়াইয়ে গোলপোস্টের নিচের মানুষটিই যখন প্রয়োজনের মুহূর্তে গোলদাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন, তখন রোনাল্ড কোম্যান জুনিয়রের গল্পটি যে আলাদা করে আলোচনায় আসবে, সেটিই স্বাভাবিক।

Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | উপ-সম্পাদক । জিলাইভ বাংলা

https://bn.glive24.com/

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।