,

ময়মনসিংহে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুজনের

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় মার্জিয়া খাতুন (২২) ও শহিদুল (৩৮) নামে দুজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত মহাসড়কের দুটি পৃথক স্থানে দুর্ঘটনা দুটো ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ত্রিশাল উপজেলার বৈলর ইউনিয়নের সম্মুখ বৈলর এলাকায় প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে। বৈলর দারুত তাকওয়া হিফজ মাদ্রাসার সামনে মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনে রাস্তা পার হওয়ার সময় শহিদুলকে পেছন দিক থেকে আসা একটি অজ্ঞাতনামা অ্যাম্বুলেন্স ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

নিহত শহিদুল ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাধাকানাই গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ত্রিশাল উপজেলার সম্মুখ বৈলর এলাকায় তার শ্বশুর আব্দুল কদ্দুসের বাড়িতে বসবাস করছিলেন। পেশায় দিনমজুর শহিদুল স্থানীয়ভাবে শ্রমের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

অন্য দুর্ঘটনাটি ঘটে একই মহাসড়কে সকাল পৌনে ১০টার দিকে ত্রিশাল পৌরসভার দরিরামপুর এলাকায়। সাইফুল কমিশনারের বাড়ির সামনে ঢাকাগামী লেনের ইউটার্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, মার্জিয়া খাতুন তার মামী মমিনা খাতুন (৩০) এবং মামাতো বোন চাদনী (১৫)-কে সঙ্গে নিয়ে একটি ভ্যানগাড়িতে করে ত্রিশাল থানার পোড়াবাড়ি বাজার এলাকায় কবিরাজের কাছে যাওয়ার জন্য রওনা হয়েছিলেন। তারা ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানার চুড়খাই কোনাপাড়ায় থাকা মার্জিয়ার বাবার বাড়ি থেকে যাত্রা শুরু করেন।

পথে দরিরামপুর এলাকায় যাওয়ার পর অসাবধানতাবশত মার্জিয়া ভ্যানগাড়ি থেকে পড়ে যান। এ সময় পেছন দিক থেকে আসা একটি অজ্ঞাতনামা বাস তাকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

মার্জিয়া উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়নের চরকুমারিয়া এলাকার তামিম মিয়ার স্ত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

দুটি দুর্ঘটনাই ঘটেছে মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনে। অল্প কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক স্থানে দুইজনের প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়ক পারাপার এবং যানবাহনে চলাচলের সময় পথচারী ও যাত্রীদের বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।

ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সবুজ জানান, পৃথক দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে। মার্জিয়া খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অন্যদিকে, শহিদুলের মরদেহ এখনো থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তার মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দুটি দুর্ঘটনায় জড়িত বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট যানবাহনগুলো ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় সেগুলোর পরিচয় শনাক্তে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে পুলিশ বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একই মহাসড়কে দুটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা স্থানীয়দের জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের পরিবারে নেমে এসেছে শোক। দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঠেকাতে পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপার, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং মহাসড়কে চালকদের সতর্কতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | উপ-সম্পাদক । জিলাইভ বাংলা

https://bn.glive24.com/

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।