কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে ১৮ মাস বয়সী জমজ দুই কন্যাশিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার কাছিয়াপুকুরিয়া গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু জুনাইরা ও তাসলিমা ওই গ্রামের জসীম উদ্দিনের জমজ মেয়ে।
ঘটনার পর পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে দুই সন্তানকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। স্থানীয়দের মধ্যেও ঘটনাটি গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, সকালে বাড়ির আশপাশে থাকা পুকুরপাড়ে খেলছিল জমজ দুই শিশু। এ সময় পরিবারের সদস্যদের নজর এড়িয়ে কোনো একপর্যায়ে তারা পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর শিশু দুটিকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুরের পানিতে তাদের পাওয়া যায়।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত দুই শিশুকে পানি থেকে উদ্ধার করেন। তাদের উদ্ধার করে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের কাছে নেওয়ার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছিল।
বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে জমজ দুই শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়। তখন তাদের আর বেঁচে থাকার কোনো লক্ষণ ছিল না। পরীক্ষা করে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ডা. জহিরুল ইসলাম আরও জানান, শিশু দুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। পানিতে ডুবে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বরুড়া থানা পুলিশও বিষয়টি জানতে পারে। বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, জমজ দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে।
তবে শিশু দুটি ঠিক কীভাবে পুকুরে পড়ে গেল এবং পানিতে কতক্ষণ ছিল, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা পুকুরপাড়ে খেলছিল। এরপরই তাদের নিখোঁজের বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে।
মাত্র ১৮ মাস বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়ির আশপাশের জলাশয় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ বয়সে শিশুরা হাঁটাচলা ও খেলাধুলা করতে পারলেও পানির গভীরতা বা ডুবে যাওয়ার মতো বিপদ সম্পর্কে বোঝার সক্ষমতা থাকে না। তাই পুকুর, ডোবা বা খালের কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য ছোট শিশুদের চলাফেরার সময় বাড়তি সতর্কতা জরুরি হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে পুকুর যদি বসতবাড়ির খুব কাছে থাকে, তাহলে শিশুরা খেলতে গিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই জলাশয়ের কিনারায় চলে যেতে পারে। এ ধরনের ঘটনায় বড়দের নজরদারি, পুকুরপাড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং শিশুদের একা বাইরে না যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে কাছিয়াপুকুরিয়ার এই ঘটনায় এমন কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কি না, তা জানা যায়নি।
জমজ দুই শিশুর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারের স্বজনরা শোকে ভেঙে পড়েছেন। সকালে বাড়ির আশপাশে খেলতে থাকা দুই শিশুকে কিছু সময় পর পুকুর থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিতে হবে—এমন ঘটনা পরিবারের জন্য অত্যন্ত মর্মান্তিক হয়ে উঠেছে।
একই পরিবারের দুই শিশুর একসঙ্গে মৃত্যুতে কাছিয়াপুকুরিয়া গ্রামেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি ও ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে।










