সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টাকা ফেরতের জন্য আবেদন করা গ্রাহকদের অর্থ ৭ সেপ্টেম্বর থেকে পরিশোধ করা হচ্ছে। তবে ১ সেপ্টেম্বরের পর আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আবেদনের তারিখ অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে অনেক গ্রাহককে অর্থ উত্তোলনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে শাখায় যেতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন শাখায় প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে যাতে গ্রাহকদের টাকা পেতে বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে জন্য শাখাগুলোতে প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করে কিছু গ্রাহককে নির্ধারিত সময়ের আগেই সীমিত পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
নয়াপল্টন শাখায়, যা আগে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের শাখা হিসেবে পরিচালিত হতো, টাকা তুলতে আসা এক নারী গ্রাহক জানান, তিনি ৩ সেপ্টেম্বর টাকা ফেরতের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তার সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়ায় হঠাৎ করে ২০ হাজার টাকার প্রয়োজন হয়। বিষয়টি তিনি শাখা ব্যবস্থাপককে জানান। পরে তার জরুরি প্রয়োজন বিবেচনা করে ২০ হাজার টাকা উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়। ব্যাংকে এসেই প্রয়োজনীয় অর্থ হাতে পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন ওই গ্রাহক।
তবে জরুরি প্রয়োজন না থাকলে আবেদন করার তারিখ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের আগে টাকা উত্তোলনের সুযোগ মিলছে না। একই শাখায় টাকা তুলতে আসা আরেক গ্রাহক জানান, এর আগেও কয়েকবার অর্থ উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে এসে তাকে ফিরে যেতে হয়েছে। এবারও শাখায় এসে জানতে পারেন, ৩ সেপ্টেম্বর আবেদন করায় আরও দুই দিন পর টাকা তুলতে পারবেন। ফলে তার প্রয়োজনীয় অর্থ পেতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আমানত ফেরতের আগে শুধু আবেদন গ্রহণ করেই অর্থ ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের ঋণসংক্রান্ত তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে। একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের কোনো একটিতে ওই গ্রাহকের খেলাপি ঋণ রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে। যাচাই শেষে গ্রাহকের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এক কর্মকর্তা জানান, কোনো গ্রাহকের খেলাপি ঋণ না থাকলে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে তার আমানতের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রয়েছে। ফলে টাকা ফেরতের ক্ষেত্রে আবেদন করার তারিখের পাশাপাশি ঋণসংক্রান্ত তথ্য যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে কাজ করছে।
অর্থ ফেরতের পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকিতে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, যাচাই-বাছাইয়ের এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো আমানত ফেরতের কার্যক্রমকে নিয়মের মধ্যে রেখে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা।
এদিকে, টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হলেও গ্রাহকদের মধ্যে অপেক্ষা নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে যেসব গ্রাহক এরই মধ্যে অর্থ ফেরতের আবেদন করেছেন, তাদের কেউ কেউ দ্রুত টাকা পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। কিন্তু আবেদন করার তারিখ অনুযায়ী অর্থ ফেরতের সময় নির্ধারিত হওয়ায় অনেককে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে জরুরি প্রয়োজন রয়েছে এমন গ্রাহকদের জন্য শাখা ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবশ্য আমানতকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, ব্যাংকটির দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করেছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক পুরো কার্যক্রম তদারকি করছে। তাই আমানতকারীদের অর্থ নিয়ে অযথা উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।
ব্যাংক কর্মকর্তারা আরও বলছেন, নিয়মিত প্রক্রিয়ায় অর্থ ফেরতের ক্ষেত্রে আবেদন যাচাই, ঋণসংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা এবং অর্থ ছাড়—এই ধাপগুলো অনুসরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রকৃত জরুরি প্রয়োজনের বিষয়গুলো মানবিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে একদিকে নিয়মের ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে, অন্যদিকে জরুরি প্রয়োজনে থাকা কিছু গ্রাহকও সীমিত পরিমাণ অর্থ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
গ্রাহকদের নির্ধারিত সময়সূচি মেনে সংশ্লিষ্ট শাখায় যাওয়ার এবং অর্থ উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা মনে করছেন, আবেদন ও যাচাইপ্রক্রিয়া নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হলে পর্যায়ক্রমে গ্রাহকদের আমানত ফেরতের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।









