,

মাদরাসাছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার

ফেনীর দাগনভূঞায় মাদরাসার এক ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে নিজাম উদ্দিন নামের এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে নোয়াখালীর চৌরাস্তা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ আগস্ট রাতে দাগনভূঞার কৌশল্যা ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদরাসার হেফজখানায় ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ২৯ আগস্ট ভুক্তভোগী ছাত্রের বাবা দাগনভূঞা থানায় শিক্ষক নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলা দায়েরের পর থেকেই নিজাম উদ্দিন আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।

এর ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল শনিবার রাতে নোয়াখালীর চৌরাস্তা এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকেই নিজাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে দাগনভূঞা থানায় নেওয়া হয় এবং মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রোববার সকালে আদালতে হাজির করা হয়।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রযুক্তিগত সহায়তায় অভিযুক্ত শিক্ষকের অবস্থান শনাক্ত করার পর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

পুলিশ বলছে, মামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহের পাশাপাশি অভিযোগের প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করা হবে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি সামনে আসার পর আবাসিক মাদরাসায় থাকা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও তদারকির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। হেফজখানার মতো আবাসিক ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় শিক্ষক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের তত্ত্বাবধানে থাকে। ফলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগ জানানোর সুযোগ রাখা এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

তবে মামলায় ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনো বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি আইন অনুযায়ী আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াতেই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মামলার তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিচয় গোপন রেখে ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা ও তদন্তের ফলাফলের ওপরই মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নির্ভর করবে।

Tags :

মুরসালিন মাহমুদ তাইসিন | সাব-এডিটর । GLive24.com

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।