ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পৃথক ঘটনায় চিকিৎসাধীন ও অসুস্থ অবস্থায় আনা তিন কারাবন্দীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা ২৫ মিনিট থেকে ৯টা ৫ মিনিটের মধ্যে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে দুজন হাজতি এবং একজন কয়েদি।
মারা যাওয়া তিনজন হলেন—হাজতি আবুল বাশার (৫৮), হাজতি আবদুল কাইয়ুম (৬২) এবং কয়েদি শাহাদাত হোসেন লিটন (৪৮)।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান তিন কারাবন্দীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মৃত্যুর পর তিনজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটের দিকে অসুস্থ অবস্থায় আবুল বাশারকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ থেকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। কারারক্ষী শহিদসহ কয়েকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। জরুরি বিভাগে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আবুল বাশার নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় হাজতি হিসেবে কারাগারে ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। তিনি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সেকান্দার আলীর ছেলে।
এরপর সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কয়েদি শাহাদাত হোসেন লিটন। অসুস্থ হয়ে গত ২৮ আগস্ট তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়।
শাহাদাত হোসেন লিটনের বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর। তিনি খুলনার দৌলতপুর থানার পাবলা গ্রামের মৃত আবদুল কাদেরের ছেলে। তবে তার কী ধরনের শারীরিক অসুস্থতা ছিল কিংবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ কী—তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সকাল ৯টা ৫ মিনিটের দিকে অসুস্থ অবস্থায় আরেক হাজতি আবদুল কাইয়ুমকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন কারারক্ষী হেমায়েত হোসেনসহ কয়েকজন। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আবদুল কাইয়ুমের বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার দুদু মিয়ার ছেলে। তারও মৃত্যুর আগে কী ধরনের অসুস্থতায় ভুগছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
একই দিনে তিন কারাবন্দীর মৃত্যু হলেও তাদের মৃত্যুর পরিস্থিতি এক ছিল না। আবুল বাশার ও আবদুল কাইয়ুমকে কারাগার থেকে অসুস্থ অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়েছিল। অন্যদিকে শাহাদাত হোসেন লিটন আগে থেকেই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
কারাগারে থাকা কোনো ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হলে সাধারণত তাকে কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। এসব ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে এই তিনজনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ববর্তী শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসার ইতিহাস বা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পেতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রোববার সকালে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিন কারাবন্দীর মৃত্যুর ঘটনায় ঢামেক হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগে মরদেহগুলোর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। তবে পৃথক এই তিন মৃত্যুর ঘটনায় কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে ধরনের কোনো তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।










