গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১২ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে ঘটনাস্থলে কিছু সময়ের জন্য তৎপরতা বাড়ে এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার গেড়াখোলা ব্রিজের পাশে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় বাসটি খাদে পড়ে গিয়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস গেড়াখোলা এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর বাসটি মহাসড়কের পাশ দিয়ে ব্রিজসংলগ্ন খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
বাসটি খাদে পড়ে যাওয়ার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দুর্ঘটনাকবলিত বাসের ভেতর ও আশপাশ থেকে আহতদের বের করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। গুরুতর আহত ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদেরও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দুর্ঘটনায় নিহত তিনজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তাঁদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজের অগ্রগতি বিবেচনায় নিয়ে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা রয়েছে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মো. আজাদুর রহমান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের বাসটি গেড়াখোলা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের এই অংশে প্রতিদিন দূরপাল্লার বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। যাত্রীবাহী বাসের এমন দুর্ঘটনায় একসঙ্গে বহু মানুষ আহত হওয়ায় নিরাপদ গতিতে গাড়ি চালানো, চালকের সতর্কতা এবং সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। তবে প্রাথমিকভাবে বাসটি কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।










