চট্টগ্রামের রাউজানে ইটবোঝাই দ্রুতগতির ট্রাকের চাপায় নুরুল ইসলাম (৫৫) নামের এক সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য নিহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে উপজেলার জলিলনগর এলাকায় চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
নিহত নুরুল ইসলাম রাউজান উপজেলার বিনাজুরী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ছিলেন। তিনি উত্তর লেলাংগাড়া গ্রামের আনজু মিয়া সারাংয়ের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একটি বেসরকারি বিমা কোম্পানিতে চাকরি করতেন বলে জানা গেছে। পারিবারিক জীবনে তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ের বাবা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নুরুল ইসলাম তাঁর কার্যালয় থেকে বের হয়ে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় চট্টগ্রামমুখী একটি ইটবোঝাই ট্রাক দ্রুতগতিতে এসে তাঁকে চাপা দেয়। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে তাঁরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। বেপরোয়া ও অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল বন্ধ, সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, ব্যস্ত সড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে সাধারণ মানুষের নিরাপদে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভের কারণে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত জলিলনগর মোড় দিয়ে দুই দিকের যান চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির দিকে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে। সড়কের উভয় প্রান্তে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূরপাল্লার যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকদেরও দুর্ভোগে পড়তে হয়।
পরে রাউজান থানা-পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর তাঁরা সড়ক থেকে সরে যান। বেলা দেড়টার দিকে যান চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়।
নিহত নুরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ সামির অভিযোগ করে বলেন, তাঁর বাবাকে শুধু দুর্ঘটনায় নয়, কার্যত হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার জন্য দায়ী ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরিবারের পক্ষ থেকেও চালককে আইনের আওতায় এনে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, নুরুল ইসলামকে চাপা দেওয়া ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ওসি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন সড়ক অবরোধ করেছিলেন। পরে পুলিশ তাঁদের সঙ্গে কথা বলে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। এতে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। চালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পর ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নিলেই হবে না; চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কে ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক আইন কার্যকর করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। তাঁদের মতে, নিয়ম না মেনে দ্রুতগতিতে ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যান চলাচল অব্যাহত থাকলে এমন দুর্ঘটনা ঠেকানো কঠিন হবে।










