কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে বল হাতে দুর্দান্ত শুরু করেছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। কেন্টের হয়ে খেলতে নেমে উস্টারশায়ারের বিপক্ষে পরপর দুই বলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের শুরুতেই নিজের কার্যকারিতা দেখিয়েছেন ডানহাতি এই পেসার। হাসানের জোড়া আঘাতে শুরুতেই চাপে পড়ে উস্টারশায়ার। প্রথম দিন শেষে দলটির সংগ্রহ ২ উইকেটে ৮০ রান।
ক্যান্টারবারিতে টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় উস্টারশায়ার। ফলে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে কেন্ট। নিজেদের প্রথম ইনিংসে খুব বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি স্বাগতিক দলটি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ২৩৮ রানে অলআউট হয় কেন্ট।
কেন্টের হয়ে ব্যাট হাতে সবচেয়ে বেশি রান করেন ড্যানিয়েল বেল-ড্রামন্ড। তার ব্যাট থেকে আসে ৫২ রান। দলের অন্য ব্যাটাররা শুরু পেলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ফলে ২৫০ পেরোনোর আগেই থেমে যায় কেন্টের প্রথম ইনিংস। উস্টারশায়ারের হয়ে বল হাতে টম টেলর নেন ৩ উইকেট।
কেন্টের লোয়ার অর্ডারে ব্যাট করতে নামেন হাসান মাহমুদও। দলের স্কোর বড় করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা সীমিত থাকলেও উইকেটে অপরাজিত থেকেই ইনিংস শেষ করেন তিনি। ৬ বল মোকাবিলা করে হাসান করেন ৪ রান। এরপর অবশ্য তার আসল ভূমিকা ছিল বল হাতে।
২৩৮ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে উস্টারশায়ারের দুই ওপেনার ড্যানিয়েল লেটগান ও জ্যাক লিব্বি শুরুটা ইতিবাচকভাবেই করেন। কেন্টের বোলারদের সামলে তারা দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। মনে হচ্ছিল, দিনের শেষ ভাগটা হয়তো কোনো উইকেট না হারিয়েই পার করে দেবে উস্টারশায়ার।
সেই সম্ভাবনাই বদলে দেন হাসান।
ষষ্ঠ ওভারে বল হাতে এসে মাত্র দুই ডেলিভারিতে উস্টারশায়ারের দুই ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেন তিনি। প্রথমে জ্যাক লিব্বিকে করা দুর্দান্ত এক বলে স্টাম্প উড়িয়ে দেন বাংলাদেশের এই পেসার। লিব্বির বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন রেহান এডভালথ। কিন্তু নতুন ব্যাটারকে সেট হওয়ার সুযোগ দেননি হাসান।
পরের বলেই এডভালথকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। অর্থাৎ পরপর দুই বলে দুটি উইকেট। একটি বোল্ড, অন্যটি এলবিডব্লিউ। হাসানের এই স্পেলেই মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় উস্টারশায়ারের ইনিংসের চিত্র।
দুই ওপেনারের একজনকে বোল্ড এবং পরের ব্যাটারকে এলবিডব্লিউ করে ফেরানোর পর উস্টারশায়ারকে নতুন করে ইনিংস সাজাতে হয়। তবে হাসানের ওই জোড়া আঘাতের পর আর কোনো উইকেট তুলে নিতে পারেনি কেন্ট। দিনের বাকি সময়টা সামলে খেলেছে উস্টারশায়ার।
দিনের খেলা শেষে ২ উইকেটে ৮০ রান করেছে তারা। অর্থাৎ কেন্টের প্রথম ইনিংসের ২৩৮ রানের চেয়ে এখনো ১৫৮ রান পিছিয়ে রয়েছে উস্টারশায়ার। হাতে আছে ৮ উইকেট। দ্বিতীয় দিনে তাদের প্রথম লক্ষ্য হবে এই ঘাটতি দ্রুত কমিয়ে এনে ইনিংসকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যাওয়া।
অন্যদিকে কেন্টের পরিকল্পনা থাকবে দিনের শুরুতেই বাকি ব্যাটারদের ওপর চাপ তৈরি করা। নতুন বল হাতে হাসান মাহমুদের ভূমিকা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রথম দিনেই দুই বলে দুই উইকেট পাওয়ায় উস্টারশায়ারের ব্যাটিং লাইনআপের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
কাউন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স সবসময়ই বাড়তি আগ্রহ তৈরি করে। হাসান মাহমুদের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ব্যাট হাতে ৪ রানে অপরাজিত থাকার পর বল হাতে মাত্র দুই ডেলিভারিতে দুই উইকেট—দিনটি তাই তার জন্য আলাদা গুরুত্বের হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে প্রথম উইকেটটি বোল্ড এবং দ্বিতীয়টি এলবিডব্লিউ হওয়ায় হাসানের বোলিংয়ের বৈচিত্র্যও ফুটে উঠেছে। অবশ্য ম্যাচের ফল বা অবস্থান নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। উস্টারশায়ারের হাতে আট উইকেট রয়েছে এবং দ্বিতীয় দিনের ব্যাটিংই ঠিক করবে ম্যাচ কোন দিকে এগোয়।
তবে প্রথম দিনের হিসাব পরিষ্কার—কেন্ট ২৩৮ রানে থামলেও হাসান মাহমুদের পরপর দুই বলে দুই উইকেট উস্টারশায়ারকে থামিয়ে দিয়েছে। ম্যাচের শুরুতেই বাংলাদেশের এই পেসারের এমন প্রভাবশালী উপস্থিতিই এখন কেন্টের জন্য বড় ইতিবাচক দিক।










