জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

গোবিন্দগঞ্জে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত দুই চালক

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই চালক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের শিয়ালগাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুজনই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পাঁচগাছি গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে লিমন মিয়া (২৩) এবং চাঁদপাড়া গ্রামের শাহীন মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া (৩০)।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে শিয়ালগাড়া এলাকায় দুটি মোটরসাইকেল দ্রুতগতিতে চলাচল করছিল। এ সময় একটি মোটরসাইকেল অন্য যানবাহনকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন বলে তারা জানান। মুহূর্তের মধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর মোটরসাইকেলটির সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষটি ছিল বেশ শক্তিশালী। এতে দুই মোটরসাইকেলের চালকই সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকেরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে দুজনের অবস্থাই গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লিমন মিয়া ও রুবেল মিয়া মারা যান।

দুজনের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। অল্প বয়সে দুই তরুণের মৃত্যুতে পরিবারগুলোতে নেমে আসে গভীর শোক। দুর্ঘটনার খবর শুনে স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মশিউর রহমান দুই মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কটি এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। বিভিন্ন শ্রেণির যানবাহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেলেও প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। ব্যস্ত সড়কে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানো কিংবা সামনে থাকা যানবাহনকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাশ কাটানোর চেষ্টা করলে নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়।

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পর্যবেক্ষণ হলো, মোটরসাইকেল চালানোর সময় গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং ওভারটেক করার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কারণ মোটরসাইকেলে চালকের সুরক্ষার জন্য গাড়ির মতো শক্ত কাঠামো থাকে না। ফলে সংঘর্ষের সময় চালক সরাসরি সড়কে পড়ে গুরুতর আঘাত পেতে পারেন।

গোবিন্দগঞ্জের শিয়ালগাড়া এলাকায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনাতেও দুই চালক গুরুতর আহত হন এবং শেষ পর্যন্ত তাদের প্রাণহানি ঘটে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংঘর্ষের সময় মোটরসাইকেল দুটির গতি এবং অন্য কোনো যানবাহনের ভূমিকা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।

Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | উপ-সম্পাদক । জিলাইভ বাংলা

https://bn.glive24.com/

সর্বশেষ খবর