সিলেটের জৈন্তাপুরে একটি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার মিনাটিলা সীমান্তবর্তী ক্যাম্পের ওয়াচ টাওয়ার থেকে জামিল হাসান শিষ (২৫) নামের ওই সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি সিলেট ব্যাটালিয়নের অধীন মিনাটিলা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
নিহত জামিল হাসান শিষ নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের ইশানঘাটি গ্রামের শেখ ফজলুর রহমানের ছেলে। কর্মসূত্রে তিনি সিলেটের জৈন্তাপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৬টার মধ্যে কোনো একসময় মিনাটিলা ক্যাম্পের ওয়াচ টাওয়ারে জামিল হাসান গলায় ফাঁস দেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এমন অবস্থায় পড়লেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ক্যাম্প ও স্থানীয় প্রশাসনে খবর দেওয়া হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। সকাল ৭টার দিকে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
এ সময় ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হালিমও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে পুলিশ ওয়াচ টাওয়ার থেকে জামিল হাসানের মরদেহ উদ্ধার করে।
মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের জন্য মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর বিষয়ে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে জামিল হাসান শিষের মৃত্যুর আগে তার কর্মস্থলে অবস্থান, ওই রাতের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হতে পারে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় দায়িত্ব পালনরত ২৫ বছর বয়সী একজন সদস্যের এমন মৃত্যুতে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তার পরিবার নড়াইলে থাকায় মরদেহ হস্তান্তর ও পরবর্তী কার্যক্রম নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
তবে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং পুলিশের তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।









