জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে আজ ১০ মুদ্রার দর

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি, প্রবাসী আয়, বিদেশে শিক্ষা ও চিকিৎসা এবং বিভিন্ন ধরনের বৈদেশিক লেনদেনে মুদ্রা বিনিময় হার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি দেশের মুদ্রার বিপরীতে অন্য দেশের মুদ্রার মূল্য প্রতিদিনই বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। বৈশ্বিক অর্থনীতির গতি, সুদের হার, জ্বালানি ও পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও সরবরাহ—সবকিছুই বিনিময় হারে প্রভাব ফেলে।

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার দরের ওঠানামা শুধু আন্তর্জাতিক লেনদেনেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব দেশের আমদানি ব্যয়, ব্যবসায়িক খরচ এবং বিদেশে অর্থ পাঠানো বা গ্রহণের ক্ষেত্রেও পড়তে পারে।

সোমবার, ৩১ আগস্টের উল্লেখিত বিনিময় হার অনুযায়ী, বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে প্রতি মার্কিন ডলারের মূল্য ১২১ টাকা ৯৫ পয়সা। ইউরোর দর ১৪২ টাকা ৪০ পয়সা এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা।

এশিয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রার মধ্যে সিঙ্গাপুর ডলারের দাম ৯৭ টাকা ৩২ পয়সা এবং মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের মূল্য ৩০ টাকা ৭৬ পয়সা। সৌদি রিয়ালের বিনিময় হার ৩২ টাকা ৮১ পয়সা। অন্যদিকে কুয়েতি দিনারের দর ৪০০ টাকা ৬১ পয়সা, যা তালিকাভুক্ত মুদ্রাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

উত্তর আমেরিকার কানাডিয়ান ডলারের মূল্য ৮৯ টাকা ১৭ পয়সা। অস্ট্রেলিয়ান ডলারের দর ৮৮ টাকা ৭৯ পয়সা। প্রতিবেশী ভারতের ক্ষেত্রে এক রুপির বিনিময় মূল্য ১ টাকা ৩০ পয়সা।

আজকের বিনিময় হার

বৈদেশিক মুদ্রাবাংলাদেশি টাকায় মূল্য
মার্কিন ডলার১২১ টাকা ৯৫ পয়সা
ইউরো১৪২ টাকা ৪০ পয়সা
ব্রিটিশ পাউন্ড১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত৩০ টাকা ৭৬ পয়সা
সিঙ্গাপুর ডলার৯৭ টাকা ৩২ পয়সা
সৌদি রিয়াল৩২ টাকা ৮১ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার৮৯ টাকা ১৭ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার৮৮ টাকা ৭৯ পয়সা
কুয়েতি দিনার৪০০ টাকা ৬১ পয়সা
ভারতীয় রুপি১ টাকা ৩০ পয়সা

মুদ্রার এই দরকে বৈদেশিক লেনদেনের একটি নির্দেশক হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবে গ্রাহক যে দামে মুদ্রা কিনবেন বা বিক্রি করবেন, তা প্রতিষ্ঠানভেদে কিছুটা আলাদা হতে পারে। ব্যাংক, অনুমোদিত মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান এবং খোলাবাজারে লেনদেনের ধরন অনুযায়ী ক্রয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যেও পার্থক্য থাকে। বিশেষ করে খোলাবাজারে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে দর দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।

বিনিময় হারের পরিবর্তনের সঙ্গে দেশের আমদানি ব্যয়েরও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বিদেশ থেকে পণ্য, কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি বা বিভিন্ন উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে বেশি দামে বৈদেশিক মুদ্রা কিনতে হলে একই পণ্য দেশে আনতে তুলনামূলক বেশি টাকা ব্যয় হতে পারে। এর প্রভাব ব্যবসার পরিচালন ব্যয় এবং কিছু ক্ষেত্রে ভোক্তা পর্যায়ের মূল্যেও পড়তে পারে।

অন্যদিকে রপ্তানি খাত ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। প্রবাসী আয় গ্রহণের ক্ষেত্রেও বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ। একই পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য পরিবর্তিত হলে দেশে প্রেরিত অর্থের স্থানীয় মুদ্রায় পাওয়া পরিমাণও বদলে যেতে পারে।

বিদেশে পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ, পণ্য আমদানি কিংবা ব্যবসায়িক প্রয়োজনের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা কেনার আগে তাই সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ দর জেনে নেওয়া জরুরি। কারণ এখানে দেওয়া হার দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ের নির্দেশক; বাজার পরিস্থিতি বদলালে একই দিনে বা পরবর্তী সময়ে বিনিময় হারও পরিবর্তিত হতে পারে।

Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | উপ-সম্পাদক । জিলাইভ বাংলা

https://bn.glive24.com/

সর্বশেষ খবর