সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হাতিয়ে নিয়ে অর্থ আত্মসাৎকারী এক সংঘবদ্ধ হ্যাকার চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সফলতা পেয়েছে পুলিশ। নাটোরের লালপুরে পৃথক দুটি ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমো আইডি হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রতারক চক্রের পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান পরিচালনা করার সময় অপরাধীদের কাজ থেকে হ্যাকিংয়ে ব্যবহৃত ১০টি স্মার্টফোন এবং প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা নগদ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রথম অভিযানটি পরিচালনা করা হয় শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে লালপুর থানার মোহরকয়া (ভাঙ্গাপাড়া) এলাকায়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুজন মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশের একটি বিশেষ দল। সেখানে হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন চক্রের তিন সদস্য—মো. মারুফ আলী (২১), মো. মেহেদী হাসান সবুজ (২৩) ও মো. আতিকুর রহমান (২০)। তাঁদের তল্লাশি করে পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং অনৈতিক উপায়ে হাতিয়ে নেওয়া নগদ ৪০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
এই অভিযানের সূত্রে ধরে একই দিন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে দ্বিতীয় সফল অভিযানটি চালানো হয় উপজেলার মহারাজপুর ঘোষপাড়া এলাকায়। সেখান থেকে হ্যাকিং চক্রের আরও দুই সদস্য তাসকিন আহম্মেদ সুইট (১৮) ও মো. সেলিমকে (২২) গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই দুজনের কাছ থেকেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত আরও পাঁচটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া এই তরুণরা সুসংগঠিতভাবে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিচ্ছিল। অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার পর অপরাধীরা সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর পরিচিতজনদের কাছে নিজেদের চরম বিপদে পড়ার মিথ্যা নাটক সাজাত। এরপর আবেগঘন বার্তা ও ভুয়া জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে কৌশলে বিকাশ, নগদ বা অন্য কোনো উপায়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত।
ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটন করায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ১৭(২)(খ), ২১(২), ২২(২) ও ২৭ ধারায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রোববার দুপুরে তাঁদের আদালতে তোলা হলে বিচারকের আদেশে তাঁদের জেলহাজতে পাঠানো হয়।
পুরো অভিযান সম্পর্কে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া চক্রগুলোকে নির্মূল করতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। সাইবার জগতে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো ব্যক্তিদের ধরতে সামনে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং অপরাধে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।









