জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

গেন্ডারিয়ায় সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে নারীসহ ৩ জন গুলিবিদ্ধ

রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় সন্ত্রাসীদের হঠাৎ এলোপাতাড়ি গুলিতে এক নারীসহ অন্তত তিনজন গুরুতর আহত ও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রোববার সন্ধ্যায় গেন্ডারিয়ার মুন্সিরটেক এলাকার একটি অফিসের সামনে ও সংলগ্ন চায়ের দোকানে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটে। আচমকা সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলিতে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় বিকট শব্দে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়।

গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় চায়ের দোকানদার আলমগীর (৩৩), হোটেলকর্মী ও পথচারী সিয়াম (১৮) এবং এলাকার বাসিন্দা আশা আক্তার (২০)। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানান, আহতদের অবস্থা বেশ গুরুতর। তরুণ সিয়ামের বুকের বাম পাশে ও কাঁধের কাছে গভীর ক্ষত তৈরি করে গুলি ঢুকে গেছে। দোকানদার আলমগীরের কপালে ও মাথার ঠিক মাঝখানে একটি গুলি সরাসরি আঘাত করেছে। এ ছাড়া হেঁটে যাওয়ার সময় আশা আক্তারের ডান পায়ের রানে একটি গুলি বিদ্ধ হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত সিয়াম জানান, তাঁর বাসা যাত্রাবাড়ী এলাকায় এবং তিনি সেখানকার একটি খাবারের হোটেলে চাকরি করেন। রোববার সন্ধ্যায় তিনি গেন্ডারিয়ার মুন্সিরটেকে নিজের ফুফার চায়ের দোকানে বেড়াতে এসেছিলেন। সেখানে অবস্থানকালে বাইরে হঠাৎ বিকট শব্দে দুই পক্ষ বা স্থানীয় দুর্বৃত্তদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে দেখে তিনি দোকান সুরক্ষিত করতে দ্রুত শাটার বন্ধের চেষ্টা করছিলেন। ঠিক তখনই বাইর থেকে ছিটকে আসা একটি গুলি ধাতব শাটার ভেদ করে তাঁর বুকের বাম পাশে ও কাঁধে এসে লাগে।

আহত চায়ের দোকানদার আলমগীরের স্ত্রী জান্নাতি আক্তার জানান, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মুন্সিরটেক এলাকায় চায়ের দোকান চালিয়ে কোনোমতে সংসারটি টেনে নিচ্ছেন। প্রতিদিনের মতো রোববার সন্ধ্যায়ও তিনি দোকানে ক্রেতাদের চা পরিবেশনে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ দোকানের বাইরে স্থানীয় দুটি গ্রুপের মুখোমুখি সংঘর্ষ ও প্রকাশ্য গোলাগুলি শুরু হয়। নিজেকে রক্ষা করতে দোকানের ভেতরের কোণে আশ্রয় নেওয়া সত্ত্বেও একটি ছিটকে আসা গুলি তাঁর কপালে লাগে। এতে তিনি মুহূর্তেই রক্তভেজা অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

ঘটনার সময় ওই পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা আশা আক্তার। তিনি জানান, ব্যক্তিগত কাজে বের হয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় আচমকা সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে যান তিনি। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া একটি গুলি এসে সরাসরি তাঁর ডান পায়ের রানে বিদ্ধ হয়। আকস্মিক এই গোলাগুলিতে অংশ নেওয়া সন্ত্রাসীরা ঠিক কাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছিল বা ঘটনাটির নেপথ্যে কোনো পুরোনো শত্রুতা ছিল কি না, সে বিষয়ে ভুক্তভোগীদের কেউ নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি।

পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, রোববার সন্ধ্যা নাগাদ গেন্ডারিয়া এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নারীসহ তিনজনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। তাদের দ্রুত ভর্তির পর জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্প থেকে বিষয়টি সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট গেন্ডারিয়া থানায় জানানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করতে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল এলাকায় ইতোমধ্যে তদন্ত কাজ শুরু করেছে।

Tags :

মোঃ সাকিব হোসেন | উপ-সম্পাদক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর