নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে প্রবাসফেরত এক যাত্রীর কাছ থেকে প্রায় ২০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এই ছিনতাইয়ের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতাকর্মীর সরাসরি সম্পৃক্ততার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা বিমানবন্দর থানা বিএনপি ও ছাত্রদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন রয়েছেন।
গত শুক্রবার (২৯ আগস্ট) আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি গোপন সূত্রের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে আটটা থেকে নয়টার মধ্যে বিমানবন্দরের বহির্গমন ও আগমনী লাইনের আশেপাশের এলাকায় এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। বিদেশ থেকে সদ্য দেশে ফেরা ওই প্রবাসী যাত্রী যখন বিমানবন্দর টার্মিনাল ত্যাগ করে গন্তব্যে রওনা দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই চক্রের সদস্যরা কৌশলে তাকে ঘিরে ধরে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছে থাকা প্রায় ২০০ গ্রাম স্বর্ণ লুটে নেয়।
একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রের মূল পৃষ্ঠপোষক ও পরিচালনাকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিমানবন্দর থানা সাংগঠনিক ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রউফ, বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপন হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হোসেন শান্ত এবং একই ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল। ভুক্তভোগী প্রবাসী মো: সুমন পরবর্তীতে জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের আশায় বিমানবন্দর থানায় অভিযুক্তদের সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করে একটি আইনি অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেছেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা যায়, বিদেশ থেকে দেশে ফেরা যাত্রীরা বিমানবন্দরে নামার পরপরই এই সিন্ডিকেটের নজরে পড়েন। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ অনুযায়ী, বিমানবন্দর গোলচত্বর ও এর আশেপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, জিম্মি করা এবং ছিনতাইয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েই চলেছে। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এই চক্রের কারণে সাধারণ প্রবাসী ও বিদেশগামী যাত্রীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অভিযুক্তরা রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছেন। বিমানবন্দরে আসা সাধারণ যাত্রীরা অনেক সময় হেনস্তার শিকার হলেও হামলা বা মামলার ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না। প্রবাসীদের রক্তজল করা আর্জির ওপর ভর করে চলা এই চক্রের অপতৎপরতা বিমানবন্দর এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।
এদিকে, সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটির গুরুত্ব অনুধাবন করে ছায়া তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









