বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পুটিখালী ইউনিয়নে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সরকারি অনুদান আত্মসাতের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের বায়তুন আমান জামে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের নামে বরাদ্দকৃত সরকারি ভাতার টাকা নিয়মিত কাজ না করেই আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মাওলানা নাজির আহম্মেদ পুটিখালী ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরের দায়িত্বে রয়েছেন। এই অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে মসজিদের সাবেক মুয়াজ্জিন আব্দুর রব হাওলাদার ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, উত্তর পুটিখালী গ্রামের পুটিখালী বায়তুন আমান জামে মসজিদে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতভাবে পাঁচ ওয়াক্ত ওয়াক্তিয়া নামাজ আদায় করা হয় না। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত ইমাম বা মুয়াজ্জিন না থাকায় জুমার নামাজে কেবল একজন অস্থায়ী ইমাম আসেন এবং সাধারণ ওয়াক্তে স্থানীয় কেউ শখের বশে বা দায়সারাভাবে আজান দেন। অথচ কাগজে-কলমে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের পদ দেখিয়ে নিয়মিত সরকারি ভাতার টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় মুসল্লি ও সচেতন বাসিন্দারা অবিলম্বে এই ভাতার টাকা প্রকৃত হকদারদের মধ্যে স্বচ্ছতার সঙ্গে বিতরণ এবং মসজিদে নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায়ের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে অস্বীকার করেছেন মাওলানা নাজির আহম্মেদ। তিনি দাবি করেন, তিনি নিজেই ওই মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং নিয়মিত নামাজ পড়ান। এছাড়া মসজিদে নিয়মিত ইমাম ও মুয়াজ্জিনও বহাল রয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, এখন পর্যন্ত কেবল পাঁচ হাজার টাকার প্রণোদনা উত্তোলন করা হয়েছে। তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই একটি কুচক্রী মহল এই মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
পুরো বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাবিবুল্লাহ গণমাধ্যমকে জানান, শুধু পুটিখালী ইউনিয়ন নয়, উপজেলার আরও বেশ কয়েকটি মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের ভাতা সংক্রান্ত বিষয়ে এ ধরনের কিছু অভিযোগ তাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। এই বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট যাচাই-বাছাই কমিটি রয়েছে। খুব দ্রুত কমিটির সভা আহ্বান করে প্রতিটি অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হবে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








