জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

হালান্ডের জোড়া গোলে প্যালেসকে উড়িয়ে দিল ম্যানচেস্টার সিটি

ম্যানচেস্টার সিটি নতুন প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখেছে। শুক্রবার রাতে ক্রিস্টাল প্যালেসকে ৪-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে তারা। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে সিটির জয়ে বড় অবদান রেখেছেন আর্লিং হালান্ড ও রায়ান শেরকি। দুজনই করেছেন জোড়া গোল।

এই জয়ের ফলে মৌসুমের প্রথম দুই ম্যাচ থেকেই পূর্ণ ছয় পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে সিটি। দলের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা যেমন নজর কেড়েছে, তেমনি ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে চাপ সামলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষমতাও ছিল চোখে পড়ার মতো।

প্যালেস অবশ্য ম্যাচের শুরুতে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছিল। স্বাগতিকদের ওপর চাপ তৈরি করে কয়েকটি আক্রমণও গড়ে তোলে তারা। কিন্তু ১৭ মিনিটেই সিটির আক্রমণ সেই প্রতিরোধ ভেঙে দেয়। অ্যান্টোয়ান সেমেনিওর বাড়ানো ক্রসে উঁচুতে উঠে হেড করেন হালান্ড। প্যালেসের গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসন বলটি নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হলে তা জালে চলে যায়। নতুন মৌসুমে এটি ছিল হালান্ডের প্রথম গোল।

গোল পাওয়ার পর সিটির আক্রমণের ধার আরও বাড়ে। ২১ মিনিটে ফিল ফোডেনের একটি শট অবশ্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্যালেসও সুযোগ খুঁজছিল সমতায় ফেরার। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে এডি এনকেতিয়াহর সামনে এমন একটি সুযোগ এসেছিল, কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।

এরপর ৫৪ মিনিটে সিটির ব্যবধান দ্বিগুণ করেন শেরকি। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ফাঁক কাজে লাগিয়ে তিনি গোলটি করেন। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে প্যালেস তখন কঠিন অবস্থায় পড়ে যায়।

তবে মাত্র দুই মিনিট পরই ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে প্যালেস। ইয়্যারেমি পিনোর ফ্রি-কিক ক্রসবারে আঘাত করার পর বল সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার শরীরে লেগে দিক পরিবর্তন করে পোস্টে আঘাত করে শেষ পর্যন্ত জালে জড়িয়ে যায়। আত্মঘাতী গোলের সৌজন্যে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ২-১।

প্যালেস সমতায় ফেরার চেষ্টা শুরু করলেও সেই আশা দ্রুতই শেষ হয়ে যায়। ৫৯ মিনিটে শেরকি নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। তার নেওয়া শট ক্রিস রিচার্ডসের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে। ফলে সিটি আবার দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

ম্যাচের শেষ দিকে হালান্ডও নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন। ৮৫ মিনিটে ফোডেনের পাস পেয়ে বাঁ পায়ে শক্তিশালী শটে বল জালে পাঠান নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার। ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর সিটির জয় নিয়ে আর কোনো সংশয় থাকেনি।

ম্যাচের সবচেয়ে কার্যকর দিক ছিল সিটির আক্রমণভাগের সমন্বয়। হালান্ডের গোল করার দক্ষতার পাশাপাশি শেরকির সৃজনশীলতা এবং ফোডেনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বল সরবরাহ সিটির আক্রমণকে আরও ধারালো করেছে। অন্যদিকে, গোলের সুযোগ তৈরি করলেও প্যালেস শেষ পর্যন্ত সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি।

মৌসুমের শুরুতেই টানা দুই জয় সিটির আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। প্রথম দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারবে। প্রায় এক সপ্তাহের বিরতির পর তাদের সামনে অপেক্ষা করছে কভেন্ট্রি সিটির বিপক্ষে ম্যাচ।

এর পরেই আসবে মৌসুমের আরও বড় পরীক্ষা। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে গিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুখোমুখি হবে সিটি। নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যানচেস্টার ডার্বি হওয়ায় ম্যাচটি দুই দলের সমর্থকদের কাছেই বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে। সিটির বর্তমান ছন্দ সেখানে ধরে রাখতে হলে হালান্ডসহ আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর