ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই কিশোর নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে ঢাকা-ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেসের ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জ এলাকার একটি আন্ডারপাসে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন পরস্পরের বন্ধু ছিলেন। একই মোটরসাইকেলে চলার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।
নিহতরা হলেন ভাঙ্গা উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের জান্দি গ্রামের প্রবাসী শাহাদাত সর্দারের ছেলে কাউছার আহমেদ রাতুল (১৭) এবং নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের ফুকুরহাটি গ্রামের কাওছার মাতুব্বরের ছেলে রাজু মাতুব্বর (১৮)। দুর্ঘটনার সময় রাতুল মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। রাজু ছিলেন তাঁর পেছনে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে দুই বন্ধু মোটরসাইকেলে করে ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জ এলাকার আন্ডারপাস দিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই সময় ঢাকা থেকে ফরিদপুরের দিকে একটি যাত্রীবাহী বাস যাচ্ছিল। আন্ডারপাস অতিক্রমের সময় বাসটি মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং দুই কিশোর গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর বাসটি ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দুই কিশোরকে ভাঙ্গা হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের আর বাঁচানো যায়নি। ঢাকায় নেওয়ার পথে দুজনেরই মৃত্যু হয়। অল্প বয়সী দুই বন্ধুর একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনায় তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের আবহ। স্থানীয়দের মধ্যেও এ ঘটনায় ব্যাপক হতাশা ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক সোহেল জানান, ঢাকা থেকে ফরিদপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেওয়ার পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গুরুতর আহত দুই কিশোরকে হাসপাতালে পাঠানো হলেও চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।
পুলিশ নিহতদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। বাসটির চালক ও সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়েও কাজ করছে পুলিশ। বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের সময় উভয় যানবাহনের অবস্থান, সড়কের পরিস্থিতি এবং চালকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকা-ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেস দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই পথে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। দ্রুতগতির বড় যানবাহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেল ও অন্যান্য ছোট যান চলাচল করায় ইন্টারচেঞ্জ, আন্ডারপাস ও সংযোগস্থলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের বড় যানবাহনের কাছাকাছি চলাচলের সময় বাড়তি সতর্ক থাকা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং সড়কের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা জরুরি। একই সঙ্গে বড় যানবাহনের চালকদেরও ছোট যানবাহনের উপস্থিতি বিবেচনায় রেখে নিয়ন্ত্রিত গতিতে চলাচল করা প্রয়োজন।
তবে ভাঙ্গার এই দুর্ঘটনায় ঠিক কী কারণে বাসটি মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়েছে এবং সংঘর্ষের পর বাসটি কেন ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি আটকের পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে।









