জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

প্রেমের বিরোধে রাজৈরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

 

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় এক জোড়া তরুণ-তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজৈর পৌরসভার পূর্ব স্বরমঙ্গল গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের কাছ থেকে জানা গেছে, সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় আগের রাতের একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে রাজৈর পৌর এলাকার হৃদয় নন্দী গ্রামের গুচ্ছগ্রাম ও পূর্ব স্বরমঙ্গল গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার মধ্যে এক তরুণ-তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। ওই প্রেমিক-প্রেমিকার কথাবার্তায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রাতের ঘটনায় হৃদয় নন্দী গ্রামের সাবেক কাউন্সিলর আজিজুল রহমান হাওলাদার রাহিমের লোকজনের সঙ্গে পূর্ব স্বরমঙ্গল গ্রামের জাকারিয়া খালাশির লোকজনের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা না হওয়ায় রাতের বিরোধের উত্তাপ পরদিন সকালেও ছড়িয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন আবারও মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে ইয়ার আলী ও আক্কাসসহ দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। সংঘর্ষের কারণে পূর্ব স্বরমঙ্গল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।

পরে আহতদের উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাঁদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বাকিদের স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে রাজৈর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পুলিশের উপস্থিতির পর দুই পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। পরে এলাকায় উত্তেজনা কমে আসে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আমিনুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ কীভাবে দ্রুত দুই পক্ষের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে, এই ঘটনা তারই উদাহরণ। স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের বিরোধ দ্রুত মীমাংসা না হলে তা বড় ধরনের সামাজিক বিরোধে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে দ্রুত সমঝোতা এবং স্থানীয়ভাবে শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সংঘর্ষের পর নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর