জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

১৮ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূলপর্বে ফেনারবাচে

দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূলপর্বে ফিরল তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ফেনারবাচে। বুধবার রাতে ফ্রান্সের অলিম্পিক লিওঁকে তাদেরই মাঠে ২–১ গোলে হারিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৩–২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছে ইস্তাম্বুলের ক্লাবটি।

প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে লিওঁর সঙ্গে ১–১ গোলে ড্র করেছিল ফেনারবাচে। ফলে শেষ ষোলো নয়, মূলপর্বে জায়গা করে নেওয়ার এই লড়াইয়ে দ্বিতীয় লেগে জয়ই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। সেই সমীকরণ সামনে রেখে ম্যাচের শুরু থেকেই বেশ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় সফরকারীদের।

২৪ মিনিটে সেই চাপের ফলও পেয়ে যায় ফেনারবাচে। ওগুজ আইদিনের বাড়ানো ক্রস থেকে ভেদাত মুরিকি হেড করেন। লিওঁর গোলরক্ষক ডমিনিক গ্রিফ প্রথম প্রচেষ্টাটি ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলের সামনে মুরিকি আর কোনো ভুল করেননি। কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন কসোভোর এই ফরোয়ার্ড।

লিড পাওয়ার পরও ফেনারবাচে থামেনি। মাত্র চার মিনিট পর ব্যবধান ২–০ করে তারা। ম্যাসন গ্রিনউডের নেওয়া কর্নার থেকে আসা বলে আর্চি ব্রাউন শক্তিশালী হেডে গোল করেন। দ্রুত দুই গোল হজম করে ম্যাচে চাপে পড়ে যায় লিওঁ। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে ফরাসি ক্লাবটি আক্রমণে ফিরতে চাইলেও ফেনারবাচের রক্ষণভাগ নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য লিওঁর খেলায় পরিবর্তন আসে। ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা চালায় তারা। ৬১ মিনিটে সেই প্রচেষ্টার ফল আসে। এইনসলে মেটল্যান্ড-নাইলসের পাস থেকে মালিক ফোফানা গোল করে ব্যবধান ২–১ করেন।

গোলটি ম্যাচের উত্তেজনা অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। সমতা ফেরাতে একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে লিওঁ। ৬৪ মিনিটে লুইস ওপেন্দা বল জালে পাঠালেও ভিএআরের পর্যালোচনায় গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এরপর ৭১ মিনিটে কাইল বুদাচে গোল করে লিওঁকে সমতায় ফেরার আরও কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু এবারও ভিএআরের হস্তক্ষেপে গোলটি বাতিল হয়; ফাউলের কারণে সেটি বৈধতা পায়নি।

শেষ মুহূর্তে লিওঁর চাপ থাকলেও ফেনারবাচে নিজেদের দুর্গ অক্ষত রাখে। আর কোনো গোল না হওয়ায় ২–১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে তুরস্কের ক্লাবটি। দুই ম্যাচের সম্মিলিত ফলে ৩–২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে তারা নিশ্চিত করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূলপর্বের টিকিট।

ফেনারবাচের জন্য এই প্রত্যাবর্তনের গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতার মূলপর্বে তাদের সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ২০০৮–০৯ মৌসুমে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে ক্লাবটিকে।

২০১০–১১ মৌসুমে তুরস্কের সুপার লিগ জয়ের পর ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ নিয়ে তদন্তের মুখে পড়ে ফেনারবাচে। এর জেরে উয়েফার নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্লাবটি টানা দুই মৌসুম ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে পুনর্বিচারে ফেনারবাচে ও ক্লাবটির সাবেক সভাপতি আজিজ ইলদিরিম অভিযোগ থেকে মুক্তি পান।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার সেই ইউরোপীয় মঞ্চেই ফিরল ফেনারবাচে। লিওঁর বিপক্ষে কঠিন অ্যাওয়ে ম্যাচে জয় শুধু তাদের মূলপর্ব নিশ্চিত করেনি, ক্লাবটির সমর্থকদেরও ফিরিয়ে দিয়েছে বহু প্রতীক্ষিত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাতের স্বাদ।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর