জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

তিব্বত থেকে আসা আকস্মিক বন্যায় নেপালে ১৬ জনের মৃত্যু

প্রতিবেশী দেশ নেপালে প্রকৃতির এক নির্মম ও ভয়াবহ রূপ দেখা গেল। তিব্বত সীমান্ত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশটির বিস্তীর্ণ জনপদ। হঠাৎ করে নেমে আসা এই সর্বগ্রাসী বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশি ও বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন। হঠাৎ করে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপালের নুয়াকোট, ধাদিং ও রসুয়া জেলার সাধারণ মানুষ বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়েছেন।
ভারতের সংবাদমাধ্যমে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মূল বিপত্তিটি শুরু হয়েছিল তিব্বত অংশের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকা থেকে। সেখান থেকে প্রচণ্ড বেগে নেমে আসা পানির ঢল ভোতে কোশি নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। নদীর পানির সেই প্রবল স্রোত নিমেষেই তলিয়ে দেয় নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন গ্রাম ও জনবসতি। আকস্মিক এই জলচ্ছ্বাসে ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।
নেপাল পুলিশের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র ও ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (ডিআইজি) অবিনারায়ণ কাফলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, উদ্ধারকর্মীরা এখন পর্যন্ত নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অন্তত আটটি মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে পানির স্রোত বেশি থাকায় এবং দুর্গম এলাকার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে পর্যটন মৌসুমের কারণে পাহাড়ি এই অঞ্চলগুলোতে প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটেছিল। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলো থেকে অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ এই যাত্রীদের মধ্যে ২৯১ জনই বিদেশি নাগরিক এবং বাকি ৯৩ জন নেপালের স্থানীয় নাগরিক। বিদেশি পর্যটকদের এই তালিকার বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছেন ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক। হঠাৎ এমন বিপদের মুখে পড়ায় নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
শুধু সাধারণ মানুষ বা পর্যটকেরাই নন, এই আকস্মিক দুর্যোগের কবলে পড়েছেন দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্যরাও। রসুয়া জেলায় নেপাল পুলিশের অন্তত ২৬ জন সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীরও সাতজন সদস্যের কোনো খোঁজ মিলছে না। আকস্মিক বন্যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এত সদস্যের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা পুরো উদ্ধার অভিযানকে আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে নেপাল সরকার ও সেনাবাহিনী দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে। দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে সেনা সদস্যদের পাশাপাশি বিশেষ উদ্ধারকারী দল ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গম ও প্লাবিত অঞ্চলগুলো থেকে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। নেপাল সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ চলমান রয়েছে এবং সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ এখনো চলছে।
Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর