পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের কলকাতায় প্রীতি ম্যাচ খেলার পাশাপাশি ঢাকায়ও একটি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন। এরই অংশ হিসেবে রোববার আকস্মিকভাবে ঢাকায় আসে সংস্থাটির পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। তারা ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম ও কিংস অ্যারেনা পরিদর্শনের পাশাপাশি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলের নির্ধারিত সময়সূচি রয়েছে। এই সময়ে একটি জাতীয় দল সর্বোচ্চ চারটি ম্যাচ খেলতে পারে। ব্রাজিলের সূচিতে ইতোমধ্যে ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ রয়েছে। এরপর ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
এরপর ৬ অক্টোবর আন্তর্জাতিক সূচির শেষ দিনে বাংলাদেশের বিপক্ষে আরেকটি ম্যাচ খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ব্রাজিল—এমন তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন কিংবা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনো আলোচনা ও সম্ভাবনার পর্যায়েই রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হচ্ছে একই সময়ে থাকা আরেকটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সূচি নিয়ে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ফিফার তত্ত্বাবধানে আয়োজিত আসিয়ান কাপ। সেখানে বাংলাদেশের অন্তত চারটি ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের পাশাপাশি স্থান নির্ধারণী ম্যাচও খেলতে হবে দলটিকে।
সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের শেষ ম্যাচটি ৪ অক্টোবর হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়া থেকে দেশে ফিরে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে মাঠে নামা কঠিন হয়ে পড়বে। ভ্রমণ, বিশ্রাম এবং খেলোয়াড়দের শারীরিক পুনরুদ্ধারের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ যদি আসিয়ান কাপে চারটি ম্যাচ খেলে ফেলে, তাহলে ৬ অক্টোবর ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করতে পারে। আবার ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচকে অগ্রাধিকার দিলে আসিয়ান কাপের সূচি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। ফলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে দুই দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ব্রাজিলকে ঢাকায় নিয়ে আসা বাংলাদেশের জন্য আর্থিকভাবেও বড় আয়োজন। তবে কলকাতায় ম্যাচ খেলার পর সেখান থেকে দলকে ঢাকায় আনা হলে ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। জানা গেছে, ব্রাজিলের প্রায় ৯০ সদস্যের দলকে কলকাতা থেকে ঢাকায় এবং পরে ঢাকা থেকে দুবাই পাঠাতে চার্টার্ড উড়োজাহাজের ব্যবস্থা করতে হতে পারে। এর সঙ্গে আবাসন, নিরাপত্তা, যাতায়াত ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার খরচও যুক্ত হবে। সরাসরি ব্রাজিল থেকে দল উড়িয়ে আনার তুলনায় ব্যয় কম হলেও আয়োজনটি যে ব্যয়সাপেক্ষ, তা নিয়ে সংশয় নেই।
এর মধ্যে কলকাতার মাঠ ও পরিবেশ নিয়েও ব্রাজিল দলের অসন্তোষের আলোচনা সামনে এসেছে। সল্টলেকের মাঠে ৩ অক্টোবরের ম্যাচ আয়োজন নিয়ে তাদের সন্তুষ্টি কতটা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এরই মধ্যে ব্রাজিলের প্রতিনিধিদলের ঢাকায় আগমন সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তবে ঢাকায় প্রতিনিধিদলের সফর থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—বাংলাদেশকে ঘিরে ব্রাজিলের আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। জাতীয় স্টেডিয়াম ও কিংস অ্যারেনা পরিদর্শন এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তারা সম্ভাব্য আয়োজন, মাঠের অবস্থা ও অন্যান্য সুবিধা সম্পর্কে ধারণা নিয়েছে।
ব্রাজিলের মতো বিশ্বখ্যাত দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের মাঠে ম্যাচ আয়োজন হলে তা দেশের ফুটবলের জন্য বড় আকর্ষণ তৈরি করবে। দর্শকদের আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের ফুটবল অবকাঠামো ও আয়োজন সক্ষমতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। তবে ম্যাচটি বাস্তবায়নের আগে আন্তর্জাতিক সূচি, বাংলাদেশের অন্য প্রতিযোগিতার সময়সূচি, খেলোয়াড়দের বিশ্রাম এবং বিপুল আয়োজন ব্যয়ের মতো বিষয়গুলো সমন্বয় করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।









