খুনের রাজনীতি খালেদা করে, বিএনপি করে: প্রধানমন্ত্রী 

খুনের রাজনীতি খালেদা করে, বিএনপি করে: প্রধানমন্ত্রী । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলার সঙ্গে খালেদা তারেক গংরা জড়িত ছিল। পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। ৭৫এর ১৫ আগস্ট হত্যার সঙ্গে জিয়াউর রহমান জড়িত ছিল। জিয়াউর রহমান  মোশতাক আহমেদকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসে। হাজার হাজার সেনাকে হত্যা করে। দুই হাজারের ওপর সেনাকে ফাঁসী বা ফায়ারিং স্কোয়াডে হত্যা করা হয়েছে। এফবিআই অফিসারকে হায়ার করে জয়কে কিডন্যাপের জন্যে ভাড়া করা হয়েছে। হত্যাকারীদের যাতে বিচার না হয় সেজন্যে ইমডেনিটি দিয়ে তাদের বিদেশে চাকরি দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়া তাদের প্রমোশন দিয়েছে। হুদাকে পার্লামেন্টে বসিয়েছে। এরশাদ খায়রুজ্জামানকে প্রমোশন দিয়ে মালয়েশিয়াকে পাঠায়। খুনের রাজনীতি খালেদা করে, বিএনপি করে এটা মানুষের কাছে স্পষ্ট।    

খুনের রাজনীতি খালেদা করে, বিএনপি করে: প্রধানমন্ত্রী

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সোমবার (২১ আগস্ট) সকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ২১ আগস্টের নিহতদের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এর পর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা স্মরণে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন আমরা যারা শেখ হাসিনার কর্মী তাদের চোখে আজ স্বজন হারানোর বেদনা। অশ্রু ঝরে। আজ আমি বিএনপি নেতাদের একটা মিথ্যাচারের জবাব দিতে চাই। তারা মিথ্যাচার করছে আওয়ামী লীগ নাকি জিয়া পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করছে। কি অদ্ভুত। দিবালোকে কি রহস্যের নাটক। 

খুনের রাজনীতি খালেদা করে, বিএনপি করে: প্রধানমন্ত্রী 

তিনি বলেন, ৭৫এর আগস্টে কে হামলা করেছে জবাব দিন। শিশু রাসেল, অবলা নারী বেগম মুজিব, গোটা পরিবারকে নিশ্চিহ্ন কারা করেছে? জিয়াউর রহমান তার রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ ও ক্ষমতার মোহ পূর্ণ করতে বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করেছে। ১৫ আগস্টের ধারাবাহিকতায় তেসরা নভেম্বর আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে জেলখানার ভেতরে চারনেতাকে হত্যা করা হয়েছে।  

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা হত্যার রাজনীতি করিনা, ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করি না। হত্যা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হই। বিদেশিদের তারা বলে আওয়ামী লীগ জিয়া পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়। খালেদা জিয়া এতিমের অর্থ আত্মসাতের দায়ে জেলে গেছেন। মাসের পর মাস আদালতে হাজিরা দেন নাই। খালেদা জিয়া জেলের বাইরে আছে আপনাদের আন্দোলন না শেখ হাসিনার উদারতা। শেখ হাসিনার উদারতা। হাওয়া ভবন থেকে গ্রেনেড হামলার নির্দেশ দিয়েছিল তৎকালীন যুবরাজ তারেক জিয়া। এখন তিনি বিদেশে কাপুরুষের মত পলাতক রয়েছে। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মাস্টার মাইন্ড তারেক জিয়া।  

ওবায়দুল কাদের বলেন আমাদের ৫শ নেতাকর্মী সারাজীবনের জন্যে পঙ্গু হয়ে গেছে। বাংলাদেশে একটি দল বিএনপি আমাদেরকে নিশ্চিহ্ন করতে এখনো বিরত হয়নি। বাংলাদেশের পতাকাকে উড্ডীন রাখতে, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে সমুন্নত রাখতে বিএনপিকে প্রতিরোধ করতে হবে, প্রতিহত করতে হবে, এদের রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করতে হবে নির্বাচনের মাধ্যমে। স্বাধীন বাংলাদেশে এদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। তাদের দেশ পাকিস্তান, তাদের দেশ আফগানিস্তান। বাংলাদেশ তাদের হৃদয়ে নেই। 

 

খুনের রাজনীতি খালেদা করে, বিএনপি করে: প্রধানমন্ত্রী 

 

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। দিনটি ছিল শনিবার। বিকেলে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে সন্ত্রাস ও বোমা হামলার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাজার হাজার মানুষের সমাগম ছিল বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের চারদিকে। সমাবেশ শেষে একটি সন্ত্রাসবিরোধী মিছিল হওয়ার কথা। তাই মঞ্চ নির্মাণ না করে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি ট্রাককে মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বুলেটপ্রুফ মার্সিডিজ বেঞ্জে চেপে বিকেল ৫টার একটু আগে সমাবেশস্থলে পৌঁছান শেখ হাসিনা। সমাবেশে অন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তৃতার পর শেখ হাসিনা বক্তব্য দিতে শুরু করেন। সময় তখন বিকেল ৫টা ২২ মিনিট।

‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে শেখ হাসিনার বক্তৃতা শেষের মুহূর্তেই শুরু হয় নারকীয় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে থাকে একের পর এক যুদ্ধে ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেড। আর প্রাণবন্ত বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ মুহূর্তেই পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা সেদিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। তবে আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ নিহত হন ২৪ জন। এছাড়া এ নৃশংস হামলায় আরও ৪০০ জন আহত হন। তাদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে যান।

Leave a Comment