জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

গোপালগঞ্জে দোকান থেকে পাউরুটি কিনতে গিয়ে দুই শিশু বোনকে ধর্ষণচেষ্টা

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে খাবার কিনতে গিয়ে ৯ ও ৭ বছর বয়সী দুই সহোদর শিশু জঘন্য যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে। জসিম মুন্সী নামে এক স্থানীয় দোকানি ও ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে এ অমানবিক ও জঘন্য চক্রান্তের অভিযোগ উঠেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে অভিযুক্ত জসিম।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী দুই শিশু সম্পর্কে আপন বোন। গত শনিবার দুপুরে খাবার পাউরুটি কেনার উদ্দেশ্যে তারা নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে পার্শ্ববর্তী রাতইল ইউনিয়নের চরপরানপুর গ্রামের জসিম মুন্সীর মুদি দোকানে যায়। অভিযুক্ত জসিম মুন্সী ওই গ্রামেরই জামাল মুন্সীর ছেলে। পেশায় তিনি একজন ট্রাকচালক এবং পাশাপাশি একটি ছোট মুদি দোকান পরিচালনা করেন।

দোকানে পাউরুটি চাইতে গেলে জসিম চতুরতার আশ্রয় নেয় এবং শিশুদের জানায় যে দোকানে পাউরুটি শেষ হয়ে গেছে। পরবর্তীতে পাউরুটি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সরল বিশ্বাসী দুই বোনকে ফুসলিয়ে পাশের একটি খালি বসতবাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর ঘরের ভেতরে নিয়ে চটজলদি দরজার খিল আটকে দেয় জসিম। এরপরই অবুঝ দুই শিশুকে একে একে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে পড়ে আতঙ্কে দুই শিশু চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করে। তাদের আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে আসেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং স্থানীয় জনতা সেদিকে এগিয়ে আসছে টের পেয়ে চতুর জসিম দৌড়ে সটকে পড়ে। উপস্থিত লোকজন তাকে ধরে ফেলার চেষ্টা করলেও তিনি দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

দুই অবুঝ শিশুর ওপর এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো গ্রামে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শান্ত চরপরানপুর গ্রামের বাসিন্দারা এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন। স্থানীয় সচেতন মানুষজন অবিলম্বে লম্পট জসিম মুন্সীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার পর পরই ভুক্তভোগী শিশুদের বাবা সুলতান মিনা বাদী হয়ে শনিবার সন্ধ্যায় কাশিয়ানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সুনির্দিষ্ট মামলা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জসিম আত্মগোপনে রয়েছে। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে এবং শিগগিরই তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করা হবে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর