ঢাকার কেরানীগঞ্জে মধ্যরাতে একটি বড় ধরনের ডাকাতির সশস্ত্র পরিকল্পনা ভণ্ডুল করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কলাতিয়া পুলিশ ফাঁড়ির একটি বিশেষ অভিযানিক দল হাতেনাতে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।
গত শনিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে কেরানীগঞ্জ উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়নের বনা কান্দি এলাকার একটি গ্রামীণফোন টাওয়ারের পাদদেশ থেকে তাদের আটক করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে এই ঝটিকা অভিযান চালায়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার বড় কাছনা গ্রামের মো. শামীম ওরফে মোজাম ডাকাত (২৮), কেরানীগঞ্জ মডেল থানার খলামোরা এলাকার শান্ত ওরফে সুমন (২৬), কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার আব্দুল হাকিম গ্রামের মো. মোক্তার হোসেন (২৭) এবং শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার বড় কাছনা এলাকার শহিদুল ইসলাম (২২)।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. শামীম ওরফে মোজাম ডাকাত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের একজন অন্যতম সক্রিয় ও বিপজ্জনক সদস্য। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ছিনতাই, অস্ত্র আইন এবং সঙ্গিন ডাকাতির ঘটনায় অন্তত ১০টি সুনির্দিষ্ট মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তার সহযোগীরা ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন জেলায় সংঘবদ্ধ অপরাধ চালিয়ে আসছিলেন।
অভিযানের বিবরণ দিয়ে কলাতিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জানান, শনিবার রাতে ফাঁড়ির একটি বিশেষ টহল টিম এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় গোপন সূত্রে তথ্য আসে যে, বনা কান্দি এলাকার গ্রামীণফোন টাওয়ারের নির্জন ফাঁকা জায়গায় ১২ থেকে ১৩ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল জমায়েত হয়েছে। তারা স্থানীয় বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে বড় ধরনের ডাকাতি করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের দলটি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারদিক থেকে পুরো এলাকা ঘেরাও করে ফেলে।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত সদস্যরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে পুলিশ সদস্যরা ধাওয়া করে চারজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এ সময় রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দলের অন্য ৭ থেকে ৮ জন সদস্য দ্রুত চম্পট দেয়। পরে আটককৃতদের কাছে থাকা একাধিক ধারালো রামদা, দেশীয় চাপাতি এবং গ্রিল কাটার সরঞ্জামসহ বেশ কয়েকটি অস্ত্র জব্দ করা হয়।
থানায় এনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করে, ওই রাতে হযরতপুর এলাকার কয়েকটি ধনী পরিবার ও বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটের উদ্দেশ্যেই তারা দেশীয় মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রসহ সেখানে গোপন আস্তানায় জড়ো হয়েছিল।
কলাতিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সময় পালিয়ে যাওয়া ডাকাতদের পরিচয় পুলিশ ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে। তাদের দমনে এবং খোয়া যাওয়া বাকিদের আইনের আওতায় আনতে এলাকা জুড়ে চিরুনি অভিযান চলছে। এই বিষয়ে মামলা দায়ের করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে।








