জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

ভৈরবে যুবলীগ নেতাকে কোপানোর পর পায়ের রগ কেটে হত্যা

কিশোরগঞ্জের বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর ভৈরবে পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলামিন সৈকতকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পর পায়ের রগ কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। গুরুতর জখম ও মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জরুরি চিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকায় নেওয়া হলে পথিমধ্যে অথবা হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গত শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে ভৈরব বাজার এলাকার একটি নির্জন গলিতে এ বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ, নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে ভৈরব বাজারের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় গলির মুখে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা আলামিন সৈকতের ওপর আচমকা ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের হাতে থাকা দেশীয় ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে সৈকতের মাথায় এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। একই সঙ্গে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে এবং একটি পায়ের রগ কেটে দিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে সটকে পড়ে। আক্রান্ত যুবলীগ নেতার চিৎকার শুনে আশেপাশের বাসিন্দা ও পথচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং তাকে উদ্ধার করেন।

স্থানীয়রা রক্তাক্ত ও অজ্ঞান অবস্থায় তাকে প্রথমে চণ্ডিবের এলাকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তার রক্তচাপ ও শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটে। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে প্রাথমিক সেবা দিয়ে পরিস্থিতি জটিল দেখে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার উন্নত হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) নির্দেশ দেন। স্বজনেরা সময় নষ্ট না করে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকার দিকে নিয়ে রওনা হন। তবে ঢাকার হাসপাতালে পৌঁছানোর পরই সেখানকার চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের খবর পুরো ভৈরব শহর ও সংলগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনীতির ময়দানে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক ও ভীতির সঞ্চার হয়েছে। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশের একাধিক টিম ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। পুলিশ স্থানটি ঘিরে রেখে মূল আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি আশেপাশের দোকান ও ভবনে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণের কাজ শুরু করেছে।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ জানতে চাইলে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দল নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে। সেখানে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় অধিবাসীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হামলাকারীদের পরিচয় ও ঘটনার কারণ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে তদন্তের গোপনীয়তা ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের সুবিধার্থে এখনই বিস্তারিত তথ্য জানাতে রাজি হননি তিনি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের পর দাফনের বিষয়ে চূড়ান্ত পারিবারিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এই হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক বিরোধ, কোন্দল, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব নাকি ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতার জেরে ঘটানো হয়েছে—সেসব সম্ভাব্য সব কটি দিক খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বর্তমানে শহরে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর