কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সিডিএম পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরের দিকে উপজেলার গৌরীপুর পূর্ব পেন্নাই ইউটার্নসংলগ্ন এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের একাংশে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে মালিখিল থেকে গৌরীপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। গৌরীপুর পূর্ব পেন্নাই ইউটার্ন এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের ওপর উল্টে যায়। প্রাথমিকভাবে চালকের অসতর্কতা বা অসচেতনতাকে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।
বাসটি উল্টে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার অভিঘাতে কয়েকজন যাত্রী আহত হন এবং কয়েকজন বাসের ভেতরে আটকা পড়েন। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও গৌরীপুর ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। স্থানীয় লোকজনও পুলিশের সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আহতদের বাস থেকে বের করে আনা হয়।
পরে আহত যাত্রীদের দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কারও আশঙ্কাজনক অবস্থার খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনায় কোনো মৃত্যুর খবরও পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওই অংশে দ্রুত যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। মহাসড়কের ওপর বাসটি উল্টে থাকায় পেছন থেকে আসা যানবাহনগুলো স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারেনি। একপর্যায়ে যানজট মালিখিল থেকে গৌরীপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনের যাত্রীদের দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে হয়।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। বাসটি সরিয়ে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং দীর্ঘ যানজটও কমে আসে।
গৌরীপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় ১০ থেকে ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ নিহত হননি। দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট যানজটও পরে নিয়ন্ত্রণে এনে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগপথ। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রামসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগে এই মহাসড়কের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখানে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার প্রভাব দ্রুত বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ইউটার্ন, বাঁক ও ব্যস্ত সংযোগস্থলে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রাখা এবং চালকের সর্বোচ্চ সতর্কতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ।
দাউদকান্দির এই দুর্ঘটনায় প্রাণহানি না ঘটলেও একসঙ্গে বহু যাত্রী আহত হওয়া এবং প্রায় ১০ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হওয়ায় মহাসড়কে নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে যান চলাচলের প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ, আহতদের চিকিৎসা এবং সড়ক থেকে দুর্ঘটনাকবলিত যান সরিয়ে নেওয়ার মতো তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ যে মহাসড়কের স্বাভাবিক চলাচল ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ, ঘটনাটি তারও উদাহরণ হয়ে থাকল।









