জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

খিলগাঁওয়ের রয়েল এইড হাসপাতালে আগুন, দ্রুত নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে অবস্থিত ‘রয়েল এইড হাসপাতালে’ শনিবার রাতে আকস্মিক এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ভবনটির নিচতলায় ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপ ও দূরদর্শিতায় বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা পেয়েছে হাসপাতালটি। দু’টি ইউনিটের সময়োচিত প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনেন কর্মীরা।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১১টার দিকে খিলগাঁওয়ের রয়েল এইড হাসপাতালের নিচতলায় জেনারেটর রুমে আগুন লাগার খবর আসে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই খিলগাঁও ফায়ার স্টেশন থেকে উদ্ধারকারী দু’টি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুততম সময়ে হাসপাতালে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রায় ২০ মিনিটের টানা প্রচেষ্টায় রাত ১১টা ২২ মিনিটে তারা আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

এদিকে রাতের বেলা হঠাৎ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেখানে চিকিৎসাধীন রোগী, তাঁদের স্বজন এবং কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি ছড়িয়ে পড়ে। নিচতলার জেনারেটর কক্ষ থেকে বিষাক্ত ধোঁয়া দ্রুত ওপরের তলার দিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে অনেকেই চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ এড়াতে হাসপাতালের কর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীরা তৎক্ষণাৎ তৎপর হয়ে ওঠেন। নিচতলা ও আশপাশের ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীদের দ্রুত নিরাপদ স্থান এবং ভবনের উন্মুক্ত অংশে সরিয়ে নেওয়া হয়। উদ্ধারকর্মীদের দ্রুততার কারণে এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জানান, আগুনের তীব্রতা মূল হাসপাতাল ভবন কিংবা ওপরের তলাগুলোতে পৌঁছানোর আগেই তা নিচতলার জেনারেটর কক্ষ ও এর সংলগ্ন ক্ষুদ্র এলাকায় সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়েছিল। যার ফলে একটি বড় ধরনের জাতীয় বা মানবিক ট্র্যাজেডি থেকে রক্ষা পেল হাসপাতালটি। তবে এই আগুনে জেনারেটরের যন্ত্রাংশ বা আনুমানিক কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার সঠিক অঙ্ক তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনের সুনির্দিষ্ট সূত্রপাত ও উৎস খুঁজে বের করতে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে জেনারেটরের যান্ত্রিক গোলযোগ কিংবা শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের সূচনা হয়ে থাকতে পারে। তদন্ত কার্যক্রম শেষ হলেই ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা ও ঘটনার পেছনের মূল কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট হওয়া যাবে। পাশাপাশি এই বেসরকারি হাসপাতালটিতে আইন অনুযায়ী পর্যাপ্ত অগ্নি-নির্বাপক সরঞ্জাম ছিল কি না এবং জরুরি মুহূর্তে খালি করার মতো বিকল্প সিঁড়ির সুব্যবস্থা ছিল কি না—তাও সরেজমিনে ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর