ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর পরিদর্শক দল পুনরায় প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এই প্রথমবারের মতো পরিদর্শক দলটি ইরানে ঢুকল। খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রোসি বলেন, “আইএইএ পরিদর্শকদের একটি দল ইরানে ফিরে গেছে এবং আমরা আবার আমাদের কাজ শুরু করছি।”
তিনি জানান, ইরানের বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনায় কীভাবে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা যায়, তা নিয়ে এখন আলোচনা চলছে। “সব স্থাপনায় হামলা হয়নি, তবে কিছুতে হয়েছে। তাই আমাদের কী ধরনের ব্যবহারিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়ে আমরা কাজ করছি,” বলেন গ্রোসি।
এর আগে জুন মাসে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ শেষে তেহরান আইএইএ–এর ‘নিরবতা ও নিষ্ক্রিয়তায়’ অসন্তোষ প্রকাশ করে সংস্থাটির সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করে। ওই সময় ইরান অভিযোগ করেছিল, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার বিষয়ে আইএইএ যথাযথ ভূমিকা নেয়নি।
এ ঘোষণা আসে একসময়, যখন জেনেভায় ইরান, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি বিষয়ে আলোচনা চলছে। ইরান ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিকে বাঁচিয়ে রাখতে চাইছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা এড়াতে চেষ্টা করছে।
ইরানের উপ–পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, “এখন সময় এসেছে ইউরোপীয় পক্ষগুলোর সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং কূটনৈতিক পথকে সময় ও সুযোগ দেওয়ার।”
উল্লেখ্য, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি আগস্টের শেষ নাগাদ ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির ‘স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া’ সক্রিয় করার হুমকি দিয়েছে। এই প্রক্রিয়া অনুযায়ী, ইরান চুক্তি লঙ্ঘন করলে আগের সব নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে আসবে।
জুনের সংঘাতের পর এটি ছিল ইউরোপীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে ইরানের দ্বিতীয় দফার আলোচনা। ওই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ইসরাইলের আকস্মিক ও নজিরবিহীন হামলার মাধ্যমে, যা যুক্তরাষ্ট্র–ইরান পারমাণবিক আলোচনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল।
তেহরান মনে করে, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে আইএইএ যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি, ফলে দুই পক্ষের সম্পর্কেও শীতলতা দেখা দেয়।
ইসরাইল বলছে, তারা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে হামলা চালিয়েছে। তবে ইরান বারবার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের চুক্তি ২০১৮ সালে বড় ধাক্কা খায়, যখন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি থেকে একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে নিয়ে ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
