উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছোট ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২)। একই পরিবারের চারজনের এই মর্মান্তিক ও নৃশংস মৃত্যুর খবর জানাজানি হতেই পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রংপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের জানান, বসতবাড়িটি দুই তলা বিশিষ্ট এবং এর প্রধান ফটক বাইরে থেকে শক্তভাবে তালা দেওয়া ছিল। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালায়। সেখানে দেখা যায়, দোতলার শোয়ার ঘরের খাটের নিচে পড়ে ছিল শিশু প্রীয়মের মরদেহ। তিনতলায় ওঠার সিঁড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় মা প্রীতিলতা ও মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তীর মরদেহ। পরিবারের কর্তা গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলের মরদেহ পড়ে ছিল ভবনের ফাঁকা ছাদে।
ঘটনাস্থলের সুরতহাল ও পারি পার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি একটি সুপরিকল্পিত নির্মম হত্যাকাণ্ড বা জটিল কোনো পারিবারিক ট্র্যাজেডি হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। দুষ্কৃতকারীরা অপরাধ সংঘটিত করার পর পুরো বাড়িটি বাইর থেকে তালাবদ্ধ করে এলাকা ছেড়েছে বলে আলামত পাওয়া গেছে। কত দিন আগে তাদের মৃত্যু হয়েছে এবং কীভাবে এই নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে উন্মোচন করতে সিআইডির ফরেনসিক ও পিবিআই টিম কাজ শুরু করেছে। লাশগুলো সুরতহাল ও অধিকতর ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পারিপার্শ্বিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে এই নৃশংস ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটন এবং অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ শুরু করেছে পুলিশের একাধিক বিশেষ তদন্ত দল।









