ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তঘেঁষা কসবা উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ দুদিন পর নায়েব আলী (৬০) নামের স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত নায়েব আলী ওই গ্রামেরই বাসিন্দা মৃত আবদুর রহিমের ছেলে। তিনি গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পারিবারিক সূত্র মারফত জানা যায়, গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নৈশভোজ শেষে প্রতিদিনের অভ্যাসমতো বাড়ির অদূরে নিজস্ব কলাবাগান দেখাশোনার উদ্দেশ্যে বের হন নায়েব আলী। মধ্যরাত পেরিয়ে গেলেও ঘরে না ফেরায় স্বজনেরা চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং আশপাশের সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন সকালে বাগানের পাশে তাঁর ব্যবহৃত জুতা ও অন্যান্য জিনিসপত্র ছেটানো অবস্থায় পাওয়া গেলে পরিবারের সন্দেহ তীব্র হয়। নিখোঁজের দুদিন পর শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে জিনিসপত্র উদ্ধারের স্থানের কাছেই একটি গভীর ডোবায় নিখোঁজ নেতার দেহ ভাসতে দেখেন স্বজনেরা। নিহতের পিঠ, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও কালশিটের সুস্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে বলে পরিবার দাবি করেছে।
হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে নিহতের ছোট ভাই ও সাবেক সেনাসদস্য মনির হোসেন জানান, সম্প্রতি ধজনগর সীমান্তে গড়ে ওঠা স্থানীয় মাদক কারবারিদের আস্তানা উচ্ছেদে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন নায়েব আলী। পরিবারের জোরালো ধারণা, মাদক কারবারি কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের শত্রুতামূলক রোষানলে পড়েই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার আকুল দাবি জানিয়েছেন নিহতের শোকাহত স্বজনেরা।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ। তিনি জানান, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বেশ কিছু স্থানে স্পষ্ট আঘাতের দাগ ও রক্তজমা কালশিটে দেখা গেছে। ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করা হয়েছে।








