জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুলাই ২০২৬, ৩:২৬ পিএম

দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সেই ঐতিহাসিক সফরের প্রথম ম্যাচকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দলে নতুন মুখ হিসেবে জায়গা পেয়েছেন ডানহাতি পেসার মুশফিক হাসান। অন্যদিকে দীর্ঘ বিরতির পর সাদা পোশাকে জাতীয় দলে ফিরেছেন সৌম্য সরকার ও জাকের আলি।
চোটের কারণে প্রথম টেস্টের দলে জায়গা হয়নি তরুণ পেসার নাহিদ রানার। তাঁর পরিবর্তেই মুশফিক হাসানকে দলে নেওয়া হয়েছে। জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার অভিজ্ঞতা অবশ্য এর আগেও হয়েছে তাঁর। ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট এবং ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজের জন্য বাংলাদেশ দলে ছিলেন এই পেসার। তবে কোনোবারই একাদশে জায়গা করে নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের সুযোগ পাননি তিনি। অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনে এবার সেই অপেক্ষার অবসান হতে পারে।
মুশফিকের সঙ্গে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে থাকছেন তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও এবাদত হোসেন। দীর্ঘ চোট কাটিয়ে এবাদতের দলে থাকা পেস বিভাগকে বাড়তি অভিজ্ঞতা দিতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নতুন বলে গতি ও বাউন্স কাজে লাগানো বাংলাদেশের বোলারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
তবে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ পাচ্ছে না নিয়মিত উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাসকে। চোটের কারণে তাঁকে আপাতত দলের বাইরে রাখা হয়েছে। যদিও টিম ম্যানেজমেন্টের আশা, সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের আগে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন। ফলে সফরের শেষ ম্যাচে লিটনের ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্যাটিং বিভাগে সবচেয়ে আলোচিত প্রত্যাবর্তন সৌম্য সরকারের। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পর টেস্ট দলে ফিরেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে টেস্ট অভিষেকের পর বাংলাদেশের হয়ে ১৬টি টেস্টে ৮৩১ রান করেছেন সৌম্য। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সাদা পোশাকে ফেরার সুযোগ তাঁর জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কঠিন সিরিজে অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোরও সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এক বছর পর টেস্ট দলে ফিরেছেন জাকের আলি। ২০২৪ সালে টেস্ট অভিষেকের পর বাংলাদেশের হয়ে ছয়টি টেস্ট খেলেছেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার এবং করেছেন ৩৩৭ রান। সর্বশেষ গত বছরের জুনে শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট খেলেছিলেন তিনি। লিটনের অনুপস্থিতিতে জাকেরের প্রত্যাবর্তন দলের উইকেটকিপিং ও ব্যাটিং পরিকল্পনায় নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশ দল ১ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়বে। মূল সিরিজ শুরুর আগে ডারউইনের ডিএক্সসি অ্যারেনায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। ম্যাচটি ৬ থেকে ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন, বাউন্সি উইকেট এবং স্থানীয় আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রস্তুতি ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এরপর ১৩ আগস্ট ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টটি ২২ আগস্ট ম্যাকায়ে অনুষ্ঠিত হবে। দুই ম্যাচের এই সিরিজ ঘিরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে, কারণ দীর্ঘ বিরতির পর আবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে দলটি।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ ছিল ২০০৩ সালে। সে সফরে দুই ম্যাচের সিরিজে স্বাগতিকদের কাছে দুই ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার ২৩ বছর পর ফের অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে নামার আগে দলটির লক্ষ্য শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নয়, নিজেদের সামর্থ্যেরও প্রমাণ দেওয়া।
প্রথম টেস্টের দলে অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন নাজমুল হোসেন শান্ত এবং সহ-অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন সৌম্য সরকার, সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, মোমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, অমিত হাসান, জাকের আলি, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, এবাদত হোসেন এবং মুশফিক হাসান।
দলের তালিকায় অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশ্রণ স্পষ্ট। সৌম্য ও জাকেরের প্রত্যাবর্তন যেমন ব্যাটিংয়ে বিকল্প বাড়িয়েছে, তেমনি মুশফিক হাসানের অন্তর্ভুক্তি পেস আক্রমণে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে। এখন দেখার বিষয়, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরের এই সফরে বাংলাদেশ দল নিজেদের কতটা মেলে ধরতে পারে।
মন্তব্য