জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

১৯ আগস্ট মুদ্রাবাজারে ডলার ১২১ টাকা ৯০ পয়সা

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রবাসী আয়, আমদানি-রপ্তানি এবং বৈদেশিক আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মুদ্রা বিনিময় হার বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক। বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার নির্ধারিত বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বিশ্বের প্রধান কয়েকটি মুদ্রার পাশাপাশি এশিয়া, ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রার দরও উঠে এসেছে।

প্রকাশিত হারে দেখা যাচ্ছে, এক মার্কিন ডলারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২১ টাকা ৯০ পয়সা। ইউরোর দর ১৪১ টাকা ১৭ পয়সা এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের দর ১৬৫ টাকা ১ পয়সা। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত মুদ্রাগুলোর মধ্যে একক মূল্য হিসেবে পাউন্ডের বিপরীতে টাকার বিনিময়মূল্য সবচেয়ে কম।

এশিয়ার মুদ্রাগুলোর মধ্যে এক চীনা ইউয়ান রেনমিনবির মূল্য ১৮ টাকা ৮ পয়সা। ভারতীয় এক রুপি ১ টাকা ২৭ পয়সা এবং শ্রীলঙ্কার এক রুপি ২ টাকা ৭২ পয়সায় বিনিময় হচ্ছে। জাপানি ইয়েনের ক্ষেত্রে এক ইয়েনের মূল্য ৭৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইয়েনের একক মূল্য তুলনামূলক কম হলেও জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ও বিনিয়োগ সম্পর্কের কারণে এ মুদ্রার বিনিময় হারও ব্যবসায়িকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য মুদ্রার মধ্যে এক সুইডিশ ক্রোনার ১২ টাকা ৭৯ পয়সা, এক সিঙ্গাপুর ডলার ৯৫ টাকা ৩৯ পয়সা, এক অস্ট্রেলীয় ডলার ৮৬ টাকা ৪৩ পয়সা এবং এক কানাডীয় ডলার ৮৭ টাকা ৭৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মুদ্রার নাম১ এককের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকা
মার্কিন ডলার১২১ টাকা ৯০ পয়সা
ইউরো১৪১ টাকা ১৭ পয়সা
ব্রিটিশ পাউন্ড১৬৫ টাকা ১ পয়সা
অস্ট্রেলীয় ডলার৮৬ টাকা ৪৩ পয়সা
জাপানি ইয়েন৭৬ পয়সা
কানাডীয় ডলার৮৭ টাকা ৭৬ পয়সা
সুইডিশ ক্রোনা১২ টাকা ৭৯ পয়সা
সিঙ্গাপুর ডলার৯৫ টাকা ৩৯ পয়সা
চীনা ইউয়ান রেনমিনবি১৮ টাকা ৮ পয়সা
ভারতীয় রুপি১ টাকা ২৭ পয়সা
শ্রীলঙ্কান রুপি২ টাকা ৭২ পয়সা

মুদ্রার এই বিনিময় হার আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশ থেকে পণ্য, শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি বা জ্বালানি আমদানির সময় সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ পরিশোধ করতে হয়। ফলে টাকার বিপরীতে বিদেশি মুদ্রার মূল্য পরিবর্তিত হলে আমদানির স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয়ও পরিবর্তিত হতে পারে। একইভাবে রপ্তানিকারকের বিদেশি মুদ্রায় পাওয়া আয় দেশে রূপান্তরের সময় বিনিময় হারের প্রভাব পড়ে।

প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ পাঠান, যা দেশে এসে টাকায় রূপান্তরিত হয়। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তিত হলে একই পরিমাণ বিদেশি মুদ্রার বিপরীতে পাওয়া টাকার পরিমাণও বদলে যেতে পারে। এর প্রভাব পরিবারগুলোর আয়, ভোগব্যয় এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে পড়তে পারে।

বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, বিদেশি সেবা গ্রহণ এবং বিভিন্ন আন্তদেশীয় আর্থিক লেনদেনেও বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন করে, তাদের আর্থিক পরিকল্পনা ও ব্যয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে মুদ্রার দর বিবেচনায় রাখতে হয়।

তবে প্রকাশিত নির্ধারিত হারকে সব ধরনের লেনদেনের চূড়ান্ত বাজারদর হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ধরন অনুযায়ী প্রকৃত ক্রয়-বিক্রয় হার কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে চাহিদা-জোগান, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সুদের হার, বাণিজ্য প্রবাহ এবং অন্যান্য বাজারগত পরিবর্তনের কারণে বিনিময় হার সময়ের সঙ্গে ওঠানামা করতে পারে।

ফলে ১৯ আগস্টের প্রকাশিত হার ব্যবসা ও আর্থিক পরিকল্পনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হলেও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সময়ের কার্যকর হার যাচাই করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও প্রবাসী আয়ের প্রবাহের সঙ্গে মুদ্রাবাজারের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এসব পরিবর্তন অর্থনীতির বিভিন্ন খাতেই প্রভাব ফেলতে পারে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর