ব্যক্তিগত নৈতিক স্খলন এবং অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পথে থাকায় ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক স্থানীয় জামায়াত নেতাকে তার দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ওই নেতার বিরুদ্ধে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ার সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি স্থানীয় জনমহল ও দলীয় অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করায় দ্রুত সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে দলটি।
ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন বোয়ালমারী পৌরসভার জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সৈয়দ সাজ্জাদ আলী। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক অভিযোগের সত্যতা মিলতেই অভিযুক্তকে তার বর্তমান পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তদন্তে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
অভিযুক্ত নেতার নাম ইনামুল মোল্লা (২৬)। তিনি বোয়ালমারী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দায়িত্বে ছিলেন। কুশডাঙ্গা গ্রামের মোদীরপাড়ার বাসিন্দা মো. আকরাম মোল্যার ছেলে ইনামুল পেশাগতভাবে বোয়ালমারী বাজারের একটি স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি বোয়ালমারী বাজারের সুপরিচিত ‘মোল্লা ডাক্তার কে হালিম হাসপাতালে’ অভ্যর্থনাকারী বা রিসেপশনিস্ট হিসেবে চাকরি করতেন।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পৌরসভার কুশাডাঙ্গা গ্রামের কুটিপাড়ার এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে ইনামুল মোল্লার অনৈতিক ও পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে এই সম্পর্ক গোপনে চলার পর সম্প্রতি বিষয়টি দুই পরিবারের মাঝে এবং পরবর্তীতে এলাকায় জানাজানি হয়ে পড়ে। এর জেরে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এদিকে, গণমাধ্যমকর্মীরা ইনামুল মোল্লার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন নম্বরই দীর্ঘদিন বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি তার পরিবারের কোনো সদস্যের সঙ্গেও এই বিষয়ে কথা বলা যায়নি।
তবে ইনামুলের কর্মস্থলের মাধ্যমে বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। হাসপাতালটির ম্যানেজার রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার দুই দিন আগে প্রবাস থেকে ওই নারীর স্বামী তাকে ফোন করেন। ফোন করে তিনি জানান যে ইনামুলের সঙ্গে তার স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে। কর্মস্থলের প্রতিনিধি হিসেবে এ বিষয়ে তিনি কী ব্যবস্থা নেবেন, তা জানতে চান প্রবাসী ওই ব্যক্তি। জবাবে ম্যানেজার রেজাউল করিম জানান যে বিষয়টি তখন তার জানা ছিল না।
অন্যদিকে, দলের অবস্থান স্পষ্ট করে জামায়াত নেতা সৈয়দ সাজ্জাদ আলী গণমাধ্যমকে বলেন, সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী ও নৈতিকতাবহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ড দল কখনোই বরদাস্ত করবে না। প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই ইনামুল মোল্লাকে প্রাথমিকভাবে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে তাকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে। দল কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপরাধ বা অপকর্মের দায়ভার নেবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।









