দেশে শিশুদের মাঝে হাম রোগের সংক্রমণ ও প্রাণহানির ধারাবাহিকতা মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই নির্দিষ্ট সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, তবুও আক্রান্তের ঊর্ধ্বমুখী সংখ্যা চিকিৎসকদের চরম উদ্বেগের মধ্যে রেখেছে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিনই হাজারো শিশু হামের নানা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হচ্ছে, যা সার্বিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য ও দৈনিক বুলেটিন সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সকাল আটটা থেকে মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত এই ২৪ ঘণ্টার হিসাব অনুযায়ী সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে মোট ১ হাজার ৬১ জন শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
চলতি বছরের শুরু থেকে দেশজুড়ে হামের যে মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে, তাতে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ইতোমধ্যেই এক হাজার ছুঁই ছুঁই করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত দেশে হাম এবং হামের বিভিন্ন উপসর্গজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে মোট ৯১৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মৃত্যুর বিশদ বিশ্লেষণে দেখা যায়, এর মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৯ জন শিশু। অন্যদিকে, হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে আরও ৮১৯ জন শিশু। চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়া এবং হামের কারণে অন্যান্য জটিলতা তৈরি হওয়া এসব মৃত্যুর প্রধান কারণ।
এর আগের দিনগুলোতেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উদাহরণস্বরূপ, গত সোমবার ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একসঙ্গে পাঁচজন শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। পাশাপাশি একই দিনে বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগেও একজন করে শিশু প্রাণ হারিয়েছিল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই রোগের সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানো হলেও শীত ও পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় এর প্রকোপ সাধারণ মানুষের মাঝে মারাত্মক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের সুরক্ষায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি শতভাগ নিশ্চিত করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা ছাড়া এই সংকট থেকে পুরোপুরি পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব নয়।









