রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩.০ (তিন দশমিক শূন্য)।
সোমবার ভোর ৫টা ৩২ মিনিটে যখন সাধারণ মানুষ ঘুমন্ত বা দিনের শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এই কম্পন অনুভূত হয়। মৃদু মাত্রার হলেও ভোরের নিস্তব্ধতায় রাজধানী ও তার আশপাশের বহু বাসিন্দা সামান্য ঝাঁকুনি অনুভব করেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল বা কেন্দ্র (Epicenter) ছিল ঢাকা থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত নরসিংদী জেলার শিবপুর এলাকায়। এর ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক ছিল ২৪.০৬ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০.৬৬ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র নিশ্চিত করেছে যে, ভূ-পৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনটির উৎপত্তি হয়েছিল। ভূ-কম্পনটির গভীরতা কম হওয়ায় উৎপত্তিস্থল ও তার নিকটবর্তী স্থানগুলোতে কম্পনটি অপেক্ষাকৃত স্পষ্টভাবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
উৎপত্তিস্থলের নিকটবর্তী এলাকা নরসিংদী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় বাসিন্দারা মৃদু ঝাঁকুনি টের পান। সকালের দিকে এই মৃদু স্পন্দন অনুভূত হলেও কোথাও কোনো ধরণের আতঙ্ক বা হুড়োহুড়ির ঘটনা ঘটেনি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এই ভূমিকম্পের ফলে কোনো প্রকার ভৌতিক ক্ষয়ক্ষতি, ভবনে ফাটল কিংবা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করলে দেশটি ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান এবং বার্মিজ টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশকে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন। বিশেষ করে মধুপুর ফল্ট এবং ডাউকি ফল্টের সক্রিয়তার কারণে ঢাকা ও নরসিংদী অঞ্চল মাঝমধ্যেই ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, এ ধরনের মৃদু ভূমিকম্প সাধারণত ভূ-গর্ভস্থ টেকটোনিক প্লেটের সঞ্চিত চাপ বা শক্তি কম মাত্রায় বের হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া। এ ধরনের স্বল্প মাত্রার কম্পন বড় ধরনের তাৎক্ষণিক বিপদ না আনলেও এটি সার্বিক ভূতাত্ত্বিক সক্রিয়তারই একটি বহিঃপ্রকাশ।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোথাও থেকে কোনো জরুরি সেবার আবেদনের খবর আসেনি। তবে নাগরিকদের যেকোনো ভূমিকম্পের সময় শান্ত থাকা এবং প্রয়োজনীয় দুর্যোগকালীন সতর্কতা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।









