রাজধানীর ডেমরায় অভিযান চালিয়ে দুটি বোমা সদৃশ বস্তুসহ জুয়েল ভুঞা (২৬) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সময় ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে আরিফ চৌধুরী (২৪) নামের আরেক তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। ১৬ আগস্ট রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ডেমরার পশ্চিম বক্সনগরের নিঝুমবাগ এলাকার গরীবের নেওয়াজ মসজিদ রোড মোড়ে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট এবং অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথভাবে এই তল্লাশি অভিযান শুরু করে। অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, পশ্চিম বক্সনগর এলাকায় তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে জুয়েলের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে থামিয়ে শরীরে তল্লাশি করা হলে কস্টেপ দিয়ে প্যাঁচানো আনুমানিক ৬ ইঞ্চি লম্বা দুটি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার জুয়েল ভুঞা নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার কাজীরচর গ্রামের আবুল ভুঞার ছেলে। আর আটক আরিফ চৌধুরী ডেমরার নিঝুমবাগ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাইয়ের ছেলে। জনবহুল নিঝুমবাগ এলাকায় বোমা সদৃশ বস্তু পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক দেখা দেয়। তবে খবর পাওয়া মাত্রই ডেমরা থানা পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরবর্তীতে উদ্ধার হওয়া আলামতসহ গ্রেপ্তার ও আটক দুজনকে ডেমরা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
জব্দ করা বস্তু দুটি সাধারণ ককটেল, শক্তিশালী বোমা নাকি কেবল কোনো ভীতি প্রদর্শনের তৈরি জিনিস—তা পরীক্ষা করে নিশ্চিত করতে সিটিটিসির বিশেষজ্ঞ বোম্ব ডিসপোজাল টিমকে খবর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ প্রশিক্ষিত এই টিম বস্তুর তৈরি উপাদান ও বিস্ফোরক সক্ষমতা খতিয়ে দেখবে। পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের কোনো উগ্রবাদী সংগঠন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা স্থানীয় অপরাধী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ডেমরা থানা পুলিশ জানিয়েছে, আলামত পরীক্ষা সাপেক্ষে আলামতের প্রকৃতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি সম্পন্ন হচ্ছে। ডেমরা, বক্সনগর ও আশপাশের এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশি টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।









