জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

জ্বালানি সংকটের দায় সরকারের নয়: মুখ্যসচিব

দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি খাতে চলমান সংকটের দায় বর্তমান সরকারের নয় বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা সমস্যাগুলো এক দিনে তৈরি হয়নি এবং দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যে এসব সংকট পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার একাধিক উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বর্তমান সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমস্যাগুলো দীর্ঘ সময় ধরে তৈরি হয়েছে। তাই এগুলোর সমাধানও সময়সাপেক্ষ। দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যমান সংকটগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব পালনের সময় বিবেচনায় না নিয়ে দীর্ঘদিনের সংকটের পুরো দায় নতুন সরকারের ওপর চাপানো বাস্তবসম্মত নয়।

মুখ্যসচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানি সংকটের পেছনে কেবল সাম্প্রতিক কোনো কারণ নয়, বরং দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার পাশাপাশি শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলে। ফলে এই খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারগুলোর একটি।

বর্তমান সরকারের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গে আগের সরকারের দীর্ঘ শাসনামলের সমালোচনাও করেন এ বি এম আব্দুস সাত্তার। তাঁর অভিযোগ, প্রায় ১৮ বছর ধরে জনপ্রশাসনের ওপর যে ধরনের চাপ ও অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব এখনো বিভিন্ন ক্ষেত্রে রয়েছে। প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতা ও রাষ্ট্র পরিচালনার নানা জটিলতা কাটিয়ে ওঠাও বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তাঁর দাবি, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একাধিক পুরোনো সমস্যা একসঙ্গে মোকাবিলা করছে। এর মধ্যে জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও নানা সমস্যায় চাপে থাকা ব্যাংকিং খাত পুনরুদ্ধারে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও জানান মুখ্যসচিব।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহের সম্পর্কও সরাসরি। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে শিল্প উৎপাদন, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক চাপ বাড়লে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। তাই দুই ক্ষেত্রেই কার্যকর সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনার সময় মন্ত্রিসভায় ১৮০ দিনের মাথায় কোনো পরিবর্তন আসতে পারে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব।

মুখ্যসচিবের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সরকার বর্তমান সংকটকে দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যার ফল হিসেবে দেখছে এবং সেগুলো কাটিয়ে উঠতে সময় প্রয়োজন বলে মনে করছে। তবে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের স্থিতিশীলতা দ্রুত নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করা, অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলোও সরকারের কার্যকারিতা মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হয়ে থাকবে।

বর্তমান সরকারের জন্য এখন মূল চ্যালেঞ্জ শুধু সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করা নয়; বরং দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো কত দ্রুত, কতটা কার্যকরভাবে এবং সাধারণ মানুষের ওপর কম চাপ রেখে সমাধান করা যায়, সেটিই সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর